


গোরক্ষপুর: দুচোখে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন। এদিকে স্কুলের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দ্বারস্থ হয় অসহায় কিশোরীর বাবা। যোগী প্রতিশ্রুতি দেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় কি! স্কুলে গিয়ে অপমানই জোটে কিশোরীর। বেতন মেটানোর কোনও নির্দেশ আসেনি, সাফ জানায় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের। যা আদতে যোগী আদিত্যনাথের গড়।
গোরক্ষনাথ মঠের অধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি টানা পাঁচবার এখান থেকে জিতেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন আদিত্যনাথ। সেই গোরক্ষপুরের এক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া পানখুরি ত্রিপাঠি। বড় হয়ে আইএএস হতে চায়। বাধা আর্থিক দৈন্য। কোভিডকালে চাকরি হারিয়েছেন পাঙখুরির বাবা রাজীব। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন। স্কুলের মাসিক বেতন ১৬৫০ টাকা, কিন্তু মাসের পর মাস এই টাকা দিতে পারেননি। বাকি প্রায় ১৮ হাজার টাকা। বেতন না মেটালে আর পড়া যাবে না, সাফ জানিয়েছে স্কুল। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনতা দরবারে’ হাজির হয়ে নিজেদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান রাজীব। পাঙখুরির কথায়, ‘সেদিন মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা শুনে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। কিশোরী মন এতেই ভেবে নিয়েছিল এবার সব ঠিক হয়ে যাবে।’
কিন্তু স্কুলে ফেরত যেতেই সব ধারণা বদলে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ চরম অপমান করে বাইরে বার করে দেয় ওই পড়ুয়াকে। প্রশ্ন করায়, কর্তৃপক্ষ সাফ জানায় বেতন মাফ করার কোনও সরকারই নির্দেশ আসেনি। বিষয়টা সামনে আসতেই সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা অখিলেশ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘বিজেপি এমনই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে অভ্যস্ত।’ শুধু তাই নয়, কিশোরীর পরিবারকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দেন। যদিও পাঙখুরি ও তাঁর পরিবার যোগীতেই ভরসা রাখতে চান। তাঁদের দাবি, নিশ্চয়ই কিছু ব্যবস্থা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।