


নাগপুর: নাগপুর হিংসায় মূল অভিযুক্ত ফাহিম খানের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। একইসঙ্গে ভেঙে দেওয়া হল মহলের জোহরিপুরায় আর এক অভিযুক্ত ইউসুফ শেখের বাড়ির বারান্দাও। যশোধরা নগরের সঞ্জয় বাগ কলোনির বাসিন্দা ফাহিম। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে হাজির হয় নাগপুর পুরসভার তিনটি বুলডোজার। তারপর কড়া পুলিসি প্রহরায় জেলবন্দি ফাহিমের দোতলা বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। শনিবার নাগপুর কাণ্ডে বুলডোজার ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তারপরেই এমডিপি নেতাফাহিমের বাড়িতে বুলডোজার চালাল স্থানীয় প্রশাসন। বুলডোজার দিয়ে অভিযুক্তদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ বারেবারেই উঠেছে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে। গত বছর নিয়ম না মেনে ঘরবাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে লাগাম টেনেছিল সুপ্রিম কোর্ট।এই পরিস্থিতিতে ফড়নবিশ সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাগপুরপুরসভার অবশ্য দাবি, ওই বাড়িটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। যশোধরা নগরের বাড়িটি ফাহিমের মায়ের নামে। পুরসভার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া নাগপুর ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের জমিতে সেটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বাড়ি ভাঙার ২৪ ঘণ্টা আগে দেওয়া হয়েছিল নোটিসও।
ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবি নাগপুরে পথে নামে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। ১৭ মার্চ ধর্মগ্রন্থ অবমানানার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি হিংসাত্মক চেহারা নেয়। সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ইরফান আনসারি নামে এক যুবকের। ঘটনায় ফাহিম সহ শতাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।তাঁরা বর্তমানে জেলবন্দি। বিক্ষোভের দু’দিন পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের আট কর্মী পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।কিন্তু বিকেলেই তাদের জামিন মঞ্জুর হয়ে যায়আদালতে।
গত শনিবার ফড়নবিশ বলেছিলেন, ‘হিংসায় ক্ষয়ক্ষতির টাকা দাঙ্গাবাজদের থেকে উসুল করা হবে। টাকা না দিলে সম্পত্তি বিক্রি করা হবে। প্রয়োজনে বুলডোজারও চলবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফাহিমের বাড়িতে চলল বুলডোজার।