


ঢাকা: সংখ্যালঘু বিদ্বেষী তকমা গায়ে লেগেছিল আগেই। এবার বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের উপর ভাষা আন্দোলন বিরোধী ভাবমূর্তিও সেঁটে গেল! ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে সামনে এসেছে শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা। সেই তালিকায় এবার জায়গা হয়নি জন্মাষ্টমী বা সরস্বতী পুজোর মতো ছুটি। এমনকী তালিকায় নেই ২১ ফেব্রুয়ারি এবং মে দিবসের ছুটিও। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তা বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের উদযাপনের দিন। সেই দিনটিতে ছুটি না থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ওই গৌরবময় ইতিহাস মুছে ফেলতে চাইছে ইউনুস সরকার। সেজন্য ছুটি বাতিল করে অমর একুশের আবেগে আঘাত হানা হয়েছে। ফলে শিক্ষামন্ত্রকের সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক দেখা দানা বেঁধেছে দেশজুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলির ছুটি বাতিল করে সবচেয়ে খারাপ নজির রাখল ইউনুস প্রশাসন। তারা দেখিয়ে দিল, দেশের মানুষের ভাবাবেগের কোনও দামই নেই সরকারের কাছে।
মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রকাশ করা তালিকায় এবার ছুটি রয়েছে ৬৪ দিন। আগের বছরের থেকে ১২ দিন কম। তাছাড়া স্কুল পরিদর্শক বা সরকারি কর্তাব্যক্তির পরিদর্শন উপলক্ষ্যে কোনও ছুটি দেওয়া যাবে না। তাছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধার নামে পড়ুয়াদের দাঁড় করিয়েও রাখা যাবে না। এতদিন পর্যন্ত ছুটি ছিল শব-ই-মিরাজ, বুদ্ধ পূর্ণিমা, আশুরা, মধু পূর্ণিমা এবং মহালয়াতেও। এবার থেকে এই দিনগুলিতে স্বাভাবিক পঠনপাঠন হবে। ইউনুস সরকারের এই ছুটি ছাঁটাইয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন গণ ফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রতর কথায়, ‘এটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত। তদারকি সরকারের কোনও জনভিত্তি নেই। অবাধ নির্বাচন করানোই তাদের কাজ। ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বদল করার কোনও অধিকার তাদের নেই।’
রমজান এবং ইদ-উল-ফিতরের ছুটিও কাটছাঁট করা হয়েছে। রমজানের ছুটি শুরু হচ্ছে ৮ মার্চ থেকে। অনেকেই বলছেন এর ফলে উপবাসের সময়ও স্কুলে থাকতে হবে পড়ুয়াদের।