


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: গোটা সন্দেশখালি যেন অস্ত্রের ভাণ্ডার! বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে অস্ত্র। তৃণমূল আমলে উদ্ধার না হওয়া শাহজাহান ও শওকতের অস্ত্র উদ্ধারে উঠেপড়ে লেগেছে বেঙ্গল এসটিএফ। অভিযোগ, এই দুই নেতার অস্ত্র কারবার নিয়ে তৃণমূল প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ন্যাজাট থানা এলাকায় খড়িহাট গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করল বেঙ্গল এসটি এফ। উদ্ধার হয়েছে ১৬টি দো নলা বন্দুক। সেই সঙ্গে ২৩৪৫টি কার্তুজ। লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুকের দোকান থেকে গুলি তৃণমূলের দুই নেতার কাছে আসত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। কোন কোন দোকান থেকে কার্তুজ সাপ্লাই করা হত সেগুলির খোঁজ চলছে।
সন্দেশখালি এলাকায় কয়েকদিন আগে শাহজাহানের আত্মীয় রমজান মোল্লাসহ চারজন গ্রেপ্তার হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুকুর ও নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দো নলা বন্দুক ও কার্তুজ। দুই দিন আগেও অস্ত্র মেলে। রমজানকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গোটা সন্দেশখালি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে শাহজাহান ও শওকত। তদন্তে উঠে আসে, জেলে বসে সন্দেশখালির বাদশা তাঁর আত্মীয় রমজানকে নির্দেশ দিয়েছে, এই সব অস্ত্র কোথায় সরাতে হবে। সেইমতো শাহজাহানের বাড়ি থেকে এই আর্মস গিয়েছে রাজবাড়ি এলাকায়। সেখানে একটি পুকুরে অস্ত্র ফেলে রেখেছে রমজান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ন্যাজাট থানা এলাকার রাজবাড়ি সংলগ্ন একটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ১৬টি দো নলা বন্দুক। ২৩৪৫টি কার্তুজ। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই অস্ত্র আনা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। শাহজাহান ও শওকত এই অস্ত্র নিয়ে আসতেন। এরপর উত্তর-পূর্ব ভারতে ভুয়ো নথি তৈরি করে সেখান থেকে জাল লাইসেন্স তৈরি করতেন এই দুই তৃণমূল নেতা। সেগুলি বিক্রি করতেন বিভিন্ন জেলা ও ভিনরাজ্যে। এর বাইরে তাঁরা এ কে সিরিজ, কারবাইন সহ বিভিন্ন ধরনের আর্মস নিয়ে এসে সন্দেশখালিতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই অস্ত্রের খোঁজ চলছে। তবে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ তাঁরা পেলেন কোথা থেকে, তদন্ত শুরু করেছেন অফিসারেরা। তাঁরা জানতে পারছেন, এই দুই তৃণমূল নেতার সঙ্গে দুই ২৪ পরগনায় বিভিন্ন লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুকের দোকানের মালিকের যোগাযোগ ছিল। সেখান থেকে নিয়মিত গুলি এই দুই নেতার কাছে পৌঁছত বলে জানা যাচ্ছে। এক একটি গুলি ১৫০-২০০ টাকায় কেনা হলেও, বিক্রি হয় ৪০০-৫০০ টাকায়। সংশ্লিষ্ট দোকানদাররা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামে গুলি তুলে চোরাপথে বিক্রি করতেন। সেই সব দোকান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।