


নয়াদিল্লি ও দুবাই: মাঝ সমুদ্রে হামলা মার্কিন সেনার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের বলি তিন ভারতীয় নাবিক। বুধবার ওমান উপসাগরে এম টি সেত্তেবেলো নামে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ওই হামলা চলে। মোট ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ছিলেন তিনজন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় নিখোঁজ ওই তিন ভারতীয় নাবিকেরই মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। আমেরিকা বলেছে, আমাদের সেনার নির্দেশ অমান্য করে ইরান থেকে তেল নিয়ে যাওয়ার কারণেই সুনির্দিষ্টভাবে ওই ভেসেলে হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার ঘটনার খবর আসার পরই দিল্লিতে নিযুক্ত আমেরিকার চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে ডেকে পাঠিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। তবে তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলা বন্ধের নামগন্ধ নেই। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও তা অব্যাহত। এদিন ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে হামলার মুখে পড়েছে এম টি জলবীর নামে একটি ভারতীয় জাহাজ। এই ঘটনার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। তারা জানিয়েছে, ইরান থেকে তেল নিয়ে ওমান উপসাগরে যাওয়ার জন্য জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে দু’টি হেলফায়ার মিসাইল ছুড়ে আঘাত হানা হয়েছে। মাসকটে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে প্রাথমিকভাবে বলা হয়, রয়্যাল নেভি অব ওমানের সহযোগিতায় এম টি জলবীরের নাবিকদের উদ্ধার করে শিনাস বন্দরে আনার কাজ হচ্ছে। পরে জানা যায়, এই জাহাজটির ২০ নাবিককেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাচক্রে, চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে তিনটি জাহাজ হামলার মুখে পড়ল। এম টি জলবীর এবং এম টি সেত্তেবেলোর আগে এম টি মারিভেক্স নামে একটি ভেসেলও মার্কিন হামলার মুখে পড়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এদিন সুর চড়িয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকও। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সুর চড়িয়েছেন বলেছেন, বিগত কয়েকদিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের উপর হামলার বহু ঘটনা ঘটেছে। আমরা আমাদের নাবিকদের কল্যাণ ও মঙ্গলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। গতকাল আমরা ওমানের উপকূলে একটি জাহাজের উপর হামলার নিন্দা জানিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত ওই ঘটনায় আমরা তিনজন ভারতীয় নাগরিককে হারিয়েছি। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন সিডিএ-কে তলব করেছিলাম। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের উপর ক্রমাগত হামলার ঘটনাগুলি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি ওই অঞ্চলের চলতি সংঘাতের প্রত্যক্ষ ফল। এই হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমরা আলোচনা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাই, যাতে এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
তবে মন্ত্রকের বিবৃতিতে সরাসরি আমেরিকার নাম উল্লেখ নেই বলে মোদি সরকারের মুণ্ডপাত করেছে সিপিএম। তাদের তোপ, যেখানে ভারতীয়দের প্রাণহানি ঘটছে, সেখানে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে এবং ‘ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর জয়গান গাইতে ব্যস্ত মোদি। নির্লজ্জ তোষামোদ! আমরা এই অবৈধ মার্কিন হামলা এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের রক্ষা করার দায়িত্ব থেকে সরকারের সরে আসার তীব্র নিন্দা জানাই।