


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তৃণমূল নেতাদের অফিসে রাখা ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারে বিরাম নেই। তার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা গেল ডায়মন্ডহারবারে। সেখানে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ওষুধ। অভিযোগ, এগুলি সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ব্যবহার করা হয়েছিল। যেগুলি মানুষকে দেওয়া হয়নি, সেসব ওষুধ এখানে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
বুধবার বিকেলে এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। জানা গিয়েছে, ডায়মন্ডহারবারের হিংচেবেড়িয়াতে এই ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি খবর পেয়ে সেখানে যায়। জেসিবি দিয়ে মাটি খুঁড়ে এই সব ওষুধ পাওয়া গিয়েছে। বেশিরভাগের মেয়াদ রয়েছে। কেন এভাবে ওষুধ মাটির নীচে চাপা দেওয়া ছিল সেটা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, কয়েক কোটি টাকার ওষুধ পুঁতে রাখা হয়েছিল। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এক নেতার বাড়ির অদূরে ওষুধ উদ্ধার হওয়ায় উঠছে নানা প্রশ্ন। কেন গরিব লোকজনকে মূল্যবান ওষুধ না দিয়ে এভাবে নষ্ট করা হল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন বিজেপি নেতাদের। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, কুলপিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই সামগ্রী উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে প্রচুর ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি ও লুঙ্গি সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিল। ভ্যানে করে সেগুলি কুলপির ব্লক অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তাপস হালদারের বাড়ির ছাদ থেকে ৭৯৬টি ময়লা ফেলার বালতি, নটি কম্বল উদ্ধার হল। পুলিশের সাহায্যে সেসব পুরসভা নিয়ে যায়। এগুলি বাড়ি বাড়ি বিতরণ করার কথা ছিল কাউন্সিলারের। কিন্তু কেন নিজের ঘরে মজুত করে রেখে দিয়েছিলেন সেটাই আশ্চর্যের। এছাড়াও সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের পার্টি অফিসের পাশে একটি গোডাউন থেকেও বিপুল ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে প্রশাসন। সেখানে ট্রিপল, কম্বল প্রভৃত্তি সামগ্রী ছিল। নিজস্ব চিত্র