


চণ্ডিগড়, ৩০ আগস্ট: কয়েক মাস পরেই পাঞ্জাবে নির্বাচন হাতে মাত্র আর কয়েকটা দিন। তার আগেই নৃশংসভাবে খুন হলেন আম আদমি পার্টির নেতা গুরপ্রীত সিং গোপি। শনিবার সন্ধ্যায় পাঞ্জাবের মমদোটে তাঁকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। পুলিশ প্রাথমিক অনুমান, হামলার নেপথ্যে পুরনো বিবাদ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ রয়েছে। এই দুই কারণকেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ আধিকারীকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় গুরপ্রীত হরপ্রীত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, একটি গাড়িতে থাকা সশস্ত্র হামলাকারীরা তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাওয়া করে। এরপর রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে গুরপ্রীতকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় তারা। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন গুরপ্রীত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, গুরপ্রীতদের মোটরসাইকেলের পিছনে একটি গাড়িতে তাঁদের কয়েকজন বন্ধুও যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, হামলাকারীরা সেই গাড়িটিকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ফলে হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিবাদ ছিল। সেই পুরনো শত্রুতার জেরেই হামলা, নাকি এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধকেও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক পুলিশি দল গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের আরো দাবি, হামলার মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তার অপরাধের ইতিহাসও রয়েছে। মামদোটের এই ঘটনায় পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে হামলার নেপথ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।