


কাঠমাণ্ডু, ৩০ আগস্ট: নেপাল বিপর্যয়ের ৪দিন পরেও বাড়ছে মৃত দের সংখ্যা। এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের নিরিখে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭৫ যা হয়ত ৭০০ গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে খনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বন্যার পর উদ্ধার হওয়া বহু মৃতদেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে বিশেষ করে চিতওয়ান জেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মৃতদেহগুলিতে পচন ধরছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তদেহগুলি সাময়িকভাবে সংরক্ষণ না করে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মাটিতে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দক্ষিণ নেপালের ভারত সীমান্তবর্তী চিতওয়ান জেলাতেই সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তার পর জেলা প্রশাসন মৃতদেহগুলি কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ভবিষ্যতে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা গেলে তাঁদের পরিবারের হাতে মরদেহ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সেই কারণে প্রতিটি মৃতদেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি দেহকে একটি নির্দিষ্ট পরিচয় বা রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি মৃতদেহ প্রায় ১.৫ মিটার গভীর গর্তে সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাপাশি এক দেহ থেকে অন্য দেহের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে। যার ফলে ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কোনও মৃতদেহ শনাক্ত হলে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেহটিই তুলে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পুরো সমাধিস্থল ও সমাধি দেওয়ার প্রক্রিয়া ভিডিও এবং ছবি তুলে নথিভুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মৃতদেহের অবস্থান জিও-ট্যাগিংও করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, নেপাল পুলিশ ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মৃতদেহগুলির তথ্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের আশা, এই তথ্য ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বহু নিখোঁজ মানুষের পরিচয় ভবিষ্যতে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।