


নয়াদিল্লি: অর্থনৈতিক অপরাধী ললিত মোদি ভানাতুর নাগরিকত্ব পাওয়ার পরই চর্চায় ওই দেশটি। এই তালিকায় প্রথমেই বলতে হয় ললিত মোদির কথা। যাঁর হাত ধরে আইপিএলের প্রতিষ্ঠা। তবে জনপ্রিয় সেই প্রতিযোগিতা থেকেই কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করে ব্রিটেনে পালিয়ে গিয়েছিলেন ললিত। ১৫ বছর কেটে গিয়েছে। তাঁকে ফেরত পাওয়ার জন্য বার বার ভারতের তরফে নানা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে নিটফল জিরো। প্রতিবারই তদন্তকারীরা তাঁর নাগাল পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কী কারণে ধনী থেকে অপরাধী সকলেইই প্রশান্ত মহাসাগরের দুর্গম দেশ ভানাতুকে বেছে নিচ্ছেন? কারণ একাধিক। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, পাসপোর্ট অনুমোদন সবচেয়ে সহজ। তার সঙ্গে অন্তত ১২০টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশে অনুমতি। এ পর্যন্ত চিনা নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি পাসপোর্ট অনুমোদন করেছে ভানাতু প্রশাসন। এতো গেল সে দেশে প্রবেশ করার অনুমতি। আর সেখানে যদি পাকাপাকিভাবে নাগরিক হয়ে যেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। আয়কর, ব্যবসায়িক কর থেকে সম্পত্তি কর— নাগরিকদের কিছুই দিতে হয় না। সেই কারণেই গত দু’বছরে অন্তত ৩০ জন ভারতীয় ভানাতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অভিবাসী ভারতীয়রাও রয়েছেন।
মাত্র ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকায় মেলে নাগরিকত্ব। অনলাইনেই সব কাজ সেরে ফেলা যায়। খুব একটা হ্যাপাও নেই। কাগজপত্রও তেমন খুঁটিয়ে দেখা হয় না। নাগরিকত্বের একদিকে এত সুবধিা, অন্যদিকে গোল্ডেন পাসপোর্ট প্রোগ্রাম। এই দুয়ের টানেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভানাতুতে আসছেন পর্যটক থেকে ধনী ব্যবসায়ারী। এই পাসপোর্ট অনুমোদনেই দেশের মোট অর্থনীতির ৪০ শতাংশ নির্ভর করছে।
সম্প্রতি ভারতীয় পাসপোর্ট ছেড়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন ললিত। তিনি ভানাতুর নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সেইজন্যই ভারতীয় পাসপোর্ট ছেড়ে দিতে চান। বিদেশ মন্ত্রক সে ব্যাপারে কিছু না জানালেও এটা স্পষ্ট যে, ভানাতুর নাগরিক ললিতের নাগাল আর হয়তো কোনওদিনই পাবেন না ভারতীয় তদন্তকারীরা। বিশেষজ্ঞ মহল অন্তত এমনটাই মনে করছে।