


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে মিলছে না গ্যাসের ওষুধ, অমিল জ্বরের বড়িও। এমনকী, হাড় মচকানো বা চোটের ব্যথায় উপশমের মলম কিংবা বর্ষার মরশুমে পেটের যন্ত্রণার জরুরি ওষুধটুকুও রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে! একপ্রকার বাধ্য হয়েই চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। প্রতিদিন আউটডোরে সরকারি নিখরচায় চিকিৎসার আশায় এসে ওষুধ না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভুক্তভোগী মানুষ। বর্ষার এই সময়ে চারদিকে জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। প্রতি বছরই এই মরশুমে রামপুরহাট মেডিকেলে পেটের সমস্যা নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী ডাক্তার দেখাতে আসেন। কিন্তু মেডিকেলে পেটের ব্যথার কোনো ওষুধ না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনায় চোট কিংবা হাড় ভেঙে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যথানাশক মলমের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে বেশকিছু দিন ধরে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহও অনিয়মিত। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর আত্মীয় সাদেকুল শেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর পর প্রেসক্রিপশন নিয়ে কাউন্টারে গেলেই বলা হচ্ছে ‘এই ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনে নিন’। সামান্য জ্বরের ওষুধ বা পেটের ব্যথার বড়িও যদি বাইরে থেকে কিনতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের সরকারি হাসপাতালে আসার অর্থই হয় না। এনিয়ে প্রায়ই আউটডোরের মেডিসিন বিভাগে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা।
মেডিকেলের এক কর্মী বলেন, দিনদশেক ধরে এই সমস্যা চলছে। সামান্য রোগের ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে প্রায়ই বচসার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সকাল থেকে আউটডোরের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তার এত ওষুধ লিখেছে, অথচ সবগুলি এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ না থাকলে আমরা কোত্থেকে দেব? এনিয়ে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহের চেইনে কোনো সমস্যার কারণেই এই সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দিন আনি দিন খাওয়া মানুষ। পকেটে টাকা না থাকায় জরুরি ওষুধ না নিয়েই অনেককে বাড়ি ফিরতে দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সরকারি বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা নিতে এসে তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও দুঃস্থ রোগীরা। পুরো বিষয়টি নিয়ে মেডিকেলের এমএসভিপি এমদাদ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সবসময় সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে নলেজে রাখা সম্ভব হয় না। তিনি বিষয়টি দ্রুত খবর নিয়ে দেখছেন এবং যেখানে যা সমস্যা রয়েছে, তা মেটানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।