


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ির সামনের রাস্তা কি ১২ মিটার বা তার বেশি চওড়া? আপনি কি মেট্রোরেল করিডরের এক কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি করবেন? কিংবা আপনি কি গ্রিন বিল্ডিং (পরিবেশবান্ধব) বানাতে চাইছেন? প্রশ্নগুলির উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনি এবার বাড়ির প্রস্তাবিত আয়তনের (বিল্ড আপ এরিয়া) উপর বাড়তি ১০ শতাংশ এফএআর (ফ্লোর এরিয়া রেশিও) পাবেন। এর ফলে নির্মাণের ক্ষেত্রে বাড়তি তল নির্মাণের সুযোগ মিলবে। এতদিন এসব ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ শতাংশ বাড়তি এফএআর পাওয়া যেত। সম্প্রতি, কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং আইনের সংশোধিত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেই দেওয়া হয়েছে এই প্রস্তাব। পাশাপাশি, নয়া আইনে ১৫ হাজার বর্গমিটার আয়তনের আবাসন হলে ‘ভিজিটরস পার্কিং’ রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর পর পুরসভার বিল্ডিং আইনে সংশোধনী আসতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়ার জন্য তার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বর্তমানে কোনও জমির সামনের রাস্তা যদি ১২ মিটার বা তার বেশি চওড়া হয় এবং সেখানে যদি ‘গ্রিন বিল্ডিং’ তৈরি হয়, তাহলে বাড়তি পাঁচ শতাংশ এফএআর মেলে। আবার একইরকম প্রশস্ত রাস্তার ধারে থাকা জমি যদি মেট্রো করিডরের এক কিলোমিটারের মধ্যে হয়, তাহলেও অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ এফএআর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ১২ মিটার চওড়া রাস্তার ধারে আবাসন তৈরি হলে তাতেও বাড়তি পাঁচ শতাংশ এফএআর দেওয়া হয়। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কর্তা বলেন, ‘বর্তমানে যে কোনও আয়তনের জমিতে উপরিউক্ত তিনটি পৃথক শর্ত পূরণ হলেও একটি সুবিধাই পাওয়া যায়। অর্থাৎ, বাড়ির আয়তনের উপর মাত্র পাঁচ শতাংশ বাড়তি এফএআর দেওয়া হয়। খসড়ায় বলা হয়েছে, এবার থেকে এই তিনটি শর্তপূরণ করলে পাঁচের বদলে ১০ শতাংশ বাড়তি এফএআর-এর সুবিধা মিলবে। ‘স্ট্যান্ড অ্যালোন বিল্ডিং’, ফ্ল্যাট বা বড় আবাসন—সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি, কোনও জমিতে পুকুর থাকলে তা বাঁচিয়ে যদি বাড়ি তৈরি করা হয়, তাহলে বাড়তি এফএআর দেওয়ার সংস্থান থাকছে নয়া আইনে।
অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে গাড়ি পার্কিং একটি বড় সমস্যা। নয়া আইনের প্রস্তাবে সেই সমস্যা সমাধানের সংস্থানও রাখা হয়েছে ‘ভিজিটরস পার্কিং’ বাধ্যতামূলক করে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘ধরুন, আপনার ফ্ল্যাটে অতিথি এসেছে। কিন্তু তাঁর গাড়ি রাখার জায়গাই নেই আপনার আবাসনে। বাধ্য হয়ে আপনার গেস্টকে বাইরে রাস্তায় গাড়ি রাখতে হচ্ছে। বড় বড় আবাসনে অবশ্য এই সমস্যা ততটা হয় না। কিন্তু এমন অনেক আবাসন রয়েছে, যেখানে অতিথিদের গাড়ি রাখার সুযোগ নেই। এতদিন এনিয়ে কোনও আইন ছিল না। তাই ভিজিটরস পার্কিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে শেষবার পুরসভার বিল্ডিং আইন সংশোধন করা হয়েছিল। এই নিয়মগুলি এতদিন নির্দেশিকা জারি করে লাগু করা হতো। এবার সমস্তটাই বিল্ডিং আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। পুরকর্তাদের আশা, পুর-পরিষদীয় প্রক্রিয়া মেনে এই সংশোধনী গৃহীত হওয়ার পর শহরের সাধারণ নাগরিকরা যেমন এর সুবিধা পাবেন, তেমনই উপকৃত হবে ছোট-বড় নির্মাণ সংস্থাগুলি। পরিবেশবান্ধব নির্মাণে উৎসাহ বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।