


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের নির্দেশের পরই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনের চিত্রটা বদলে গেল বুধবার সকাল থেকেই। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাড়তি পুলিশ কর্মী তুলে নেওয়া হল। ফুটপাত জুড়ে থাকা পুলিশের ক্যাম্পও উধাও! সরিয়ে ফেলা হয়েছে স্ক্যানার মেশিনও। জেড ক্যাটিগরির নিরাপত্তাধারীরা নিয়মানুযায়ী যে নিরাপত্তারক্ষী পান কেবল সেটিই রাখা হচ্ছে। এমনকি, অভিষেক যাতায়াতের পথে মুখ্যমন্ত্রীর সমতুল্য যে ট্রিটমেন্ট পেতেন এবং বিপুল গাড়ির কনভয় ছুটত তাও ছেঁটে দেওয়া হচ্ছে। শুধু অভিষেকই নয় তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলা পরিষেদের সভাধিপতি ও নেতা-কর্মীরা যে অতিরিক্ত পুলিশি ব্যবস্থা পেতেন তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু নেতাকে স্থানীয় থানার ওসিরা নিয়মের বাইরে গিয়েই পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেসব কোন যুক্তিতে দেওয়া হয়েছিল, তার অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
মমতা জমানায় অভিষেককে পুলিশ মহলে সকলেই ‘বস’ মনেতেন। পোস্টিং পেতে তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে গিয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতেন আইপিএস অফিসার থেকে শুরু করে আইসি-ওসিরা। ডায়মন্ডহারবারের এমপির সঙ্গে তাঁদের কথা বলিয়ে দেওয়ার মাধ্যম ছিলেন পিএ সুমিত রায়। লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই জেড ক্যাটিগরির নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তারা অতিরিক্ত সুরক্ষা দিয়েছিলেন অভিষককে। তাঁর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের অন্তত দশটি গাড়ির কনভয় ছুটত। তিনি যে রাস্তা দিয়ে যেতেন তা দশ মিনিট আগে থেকেই বন্ধ হয়ে যেত! পালাবদলের পর অতিরিক্ত এই নিরাপত্তা তুলে নিল লালবাজার।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বুধবার বলেন, নিয়মানুয়াযী মমতা ও অভিষেক যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা তা তাঁরা পাচ্ছেন। এর বাইরে ছিল অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেটি এদিন প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের পুলিশের স্বাভাবিক ডিউটিতে তাঁদের লাগানো হবে।
একইসঙ্গে অভিষেকের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশ ডিরেক্টরেটে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে বলে খবর। পশাপাশি তৃণমূলের বিদায়ী নেতা-মন্ত্রী, বিধায়কসহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের একেকজনের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে তিন বা চারগুণ বেশি পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার বাড়িতে এবং অফিসে রেখেছিলেন। তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী ছিলেন। তাঁরা কোনো ডিউটিই করতেন না। বুধবার নির্দেশিকা জারি করে তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও থানার ডিউটিতে কাজে লাগানো হবে।