


নয়াদিল্লি, ৮ জুন: রাজ্যে তৃণমূল জামানার পতনের পরই বিধায়ক, কাউন্সিলররা একে একে দলত্যাগ করতে ব্যস্ত। দলের অন্দরে উঠেছে বিদ্রোহের অভিযোগও। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। দলীয় সাংসদরাও এবার বিদ্রোহী! আজ সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন চিঠি দিয়েছেন। আরও একজন দলীয় স্পিকারও চিঠি দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদিন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ স্পিকারকে চিঠি দেন। আলাদা ব্লকের বসার অনুরোধও জানানো হয়। এমনকি তাঁরা এনডিএ-কে সাপোর্ট করবেন বলেও জানা গিয়েছে। তার আগে অবশ্য মতিলাল নেহরু মার্গে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। জানা যাচ্ছে, কাকলি ছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, শর্মিলা সরকার, সুখেন্দু শেখর রায়, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ অন্যান্যরা। দাবি করা হয়েছে, এই বৈঠকে না কী উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহী সাংসদদের দলের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের হাতেই সেই দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন রয়েছে। ২৮ জন সাংসদদের মধ্যে বিদ্রোহীদের সংখ্যা ২০ জন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারেও বলেও শোন যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এখন নয়াদিল্লিতেই তৃণমূল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু তারপরও দলীয় সাংসদদের এই বিদ্রোহ দলের ভাঙনকেই আরও সুস্পষ্ট করে তুলল। অন্যদিকে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যেই ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিদ্রোহী হয়েছেন। ত্যাগ করেছেন দলনেত্রী মমতার সঙ্গও।