


নয়াদিল্লি: গত বছর ১০ নভেম্বর দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে আত্মঘাতী জঙ্গি বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখাই (একিউআইএস)। এবিষয়ে এবার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দিল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিমও। জঙ্গি হামলার ওই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ইতিমধ্যেই ৭ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে। ফাঁস হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীর ‘মেডিকেল মডিউল’। কারণ, চক্রান্তের নেপথ্যে কাজে লাগানো হয়েছিল একঝাঁক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে। এনআইএ-র দাবি ছিল, চার্জশিটে নাম থাকা ১০ অভিযুক্তের সঙ্গে যোগ রয়েছে আনসার ঘাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে একটি সংগঠনের। সেটি আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার অধীনে কাজ করে। এবার নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ‘অ্যানালিটিকাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর ৩৮তম রিপোর্টেও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় চাপানো হল আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার উপরই। নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ স্যাংশন কমিটিতে রিপোর্টটি পেশ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, একিউআইএস খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া জারি রেখেছে। বিচ্ছিন্ন ছোটো ছোটো সেলের মাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এই সংগঠন তাদের লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। লালকেল্লায় হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের উপরই বর্তায়। নিরাপত্তা পরিষদের এই রিপোর্টে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পাশাপাশি বিশেষভাবে বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একিউআইএস তাদের নতুন সন্ত্রাসবাদী সেল গঠনের কাজে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করতে পারে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে আল কায়েদা ও আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর সহযোগী সংগঠনগুলি বহু বছর ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে আগ্রহী। তবে টেকনিকাল চ্যালেঞ্জের কারণে সেই কাজে তারা এখনও সাফল্য পায়নি। যদিও এবিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি অনলাইনে সক্রিয় মডিউলগুলির মধ্যে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।