


নিউ ইয়র্ক: ফরাসি ওপেনের পর ইউএস ওপেন। একই বছরে দুটো গ্র্যান্ড স্ল্যাম পকেটে পুরলেন আলেকজান্ডার জেরেভ। শীর্ষ বাছাই জার্মান তারকা রবিবার রাতে পুরুষদের সিঙ্গলসের ফাইনালে চার সেটের লড়াইয়ে হারান বেন শেলটনকে। ম্যাচের ফল ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২, যা স্তব্ধ করে দেয় ২৪ হাজারের গ্যালারিকে। কারণ, ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর প্রথম আমেরিকান হিসাবে এই আসরে শেলটনের জয়ের আশায় ছিলেন অধিকাংশ দর্শক। তাঁর প্রতিটি পয়েন্টের সঙ্গে উঠছিল গর্জন। তবে জেরেভের জয় তাতে আটকানো যায়নি। চতুর্থ সেটে তো প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি তিনি। কেরিয়ারে এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে শীর্ষ বাছাই হিসাবে নেমেছিলেন জেরেভ। ফ্লাশিং মিডোয় শুরুর দিকে সেরা ছন্দে ছিলেন না তিনি। তবে ক্রমশ উন্নতি করতে থাকেন। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ফাইনালেও ছিলেন চেনা মেজাজে। প্রথম গেমেই শেলটনের সার্ভিস ভেঙে দেন জেরেভ। দ্বিতীয় সেটে গ্যালারির সমর্থনকে রসদ করে মরিয়া প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ঘরের ছেলে শেলটন। তবে টাই-ব্রেকারে নিখুঁত সার্ভিসে বাজিমাত করেন জেরেভ।
প্রথম দু’টি হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও গুটিয়ে যাননি শেলটন। তৃতীয় সেট জিতে লড়াইয়ে ফেরেন অষ্টম বাছাই মার্কিনী যুবক। কিন্তু চতুর্থ সেটে ২৯ বছরের জার্মান তারকার সামনে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি তাঁকে। জেরেভ এতটাই ম্যাচে মগ্ন ছিলেন যে, জয়ের মুহূর্তেও তা টের পাননি। বরং বেসলাইনের কাছে গিয়ে পরের গেমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন! কয়েক মুহূর্ত পর যদিও স্কোরবোর্ডে চোখ পড়তেই সম্বিত ফেরে তাঁর। দু’হাত তুলে মেতে ওঠেন উৎসবে।
পরে ট্রফি হাতে নিয়ে জেরেভ বলেন, ‘জানতাম ৯৯.৯ শতাংশ মানুষ এখানে শেলটনের জয় দেখতে এসেছেন। তাঁদের সবার জন্য আমি দুঃখিত। তবে এখানে খেলার পরিবেশ অসাধারণ। দর্শকরা আমার বিপক্ষে থাকলেও কখনো নিরপেক্ষতা হারাননি তাঁরা।’
চ্যাম্পিয়নকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন শেলটনও। ২৩ বছরের মার্কিনী খেলোয়াড় বলেন, ‘তুমি এখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম। হয়তো এবছরের বিশ্বসেরাও।’ উল্লেখ্য, চোটের জন্য জানিক সিনার এই আসরে খেলেননি। চোট সারিয়ে ফেরা কার্লোস আলকারাজ বিদায় নেন কোয়ার্টার ফাইনালে। আর নোভাক জকোভিচ ছিটকে গিয়েছিলেন প্রথম রাউন্ডেই। সুযোগের সদ্ব্যবহারে ভুল হয়নি অভিজ্ঞ জেরেভের।