


ইস্ট বেঙ্গল-১ (আকাশ) : মহমেডান স্পোর্টিং-১ (লালথানকিমা)
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণী: সোমবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে কলকাতা লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল ও মহমেডান স্পোর্টিং। এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় জমে গেল খেতাবি লড়াই। শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে টিকে রইল ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সাদা-কালো ব্রিগেডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লালথানকিমা। সংযোজিত সময়ে দুরন্ত সাইড ভলিতে সমতা ফেরান আকাশ হেমব্রম। এর জেরে ঘরোয়া লিগের খেতাবি দৌড়ে প্রবলভাবে রইল তিন প্রধান।
চারপাশে সবুজে ঘেরা মনোরম গ্যালারি, ঝকঝকে আকাশ— মিনি ডার্বির জন্য কল্যাণী স্টেডিয়াম তৈরি ছিল আদর্শ মঞ্চ। কিন্তু দু’দলের পারফরম্যান্স সেই আবহের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ। চোট এবং অফিস খেলার কারণে এদিন প্রথম একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন করেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে মহমেডান। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় সাদা-কালো ব্রিগেড। ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে লালথানকিমা পাস বাড়ান থাঙ্গবারকে। তাঁর শট কোনোওক্রমে ফিস্ট করে ফিরিয়ে দেন ইস্ট বেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব। প্রাথমিক চাপ সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরে ইস্ট বেঙ্গল। ১৩ মিনিটে বিজয় মুর্মুর নিশ্চিত গোলের সুযোগ দুর্দান্তভাবে আটকে দেন মহমেডান গোলরক্ষক। এরপরেও গোলের সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে পারেনি দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণে গতি বাড়াতে জোড়া পরিবর্তন করেন অর্চিষ্মান। সুমন ও দেবদত্তকে মাঠে নামান তিনি। ইস্ট বেঙ্গলের খেলায় গতি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লিড আসেনি। এরই মধ্যে ম্যাচের গতির বিপরীতে এগিয়ে যায় মহমেডান। এক্ষেত্রে গোলরক্ষক গৌরবের ভুলের মাশুল দিতে হয় লাল-হলুদ ব্রিগেডকে। গোল ছেড়ে বেরিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তিনি। সেই সুযোগে রেমসাঙ্গা বল কেড়ে নিয়ে বাড়িয়ে দেন লালথানকিমাকে। তাঁর জোরালো শট সৌমিকের হাতে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। মনোতোষ চাকলাদার বল ক্লিয়ার করলেও রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দেন (১-০)। ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে মশাল বাহিনী। আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়লেও মহমেডান রক্ষণে বারবার আটকে যান দেবদত্তরা। এই পর্বে মনে হয়েছিল, মহমেডানের জয়ে ইস্ট বেঙ্গলের লিগ অভিযান শেষ। কিন্তু শেষলগ্নে স্বস্তির নিশ্বাস লাল-হলুদ ডাগ-আউটে। ম্যাচের সংযোজিত সময়ে অনন্থুর কর্নার থেকে আসা বল দুরন্ত সাইড ভলিতে জাল কাঁপান আকাশ হেমব্রম (১-১)।