


ইউনাইটেড স্পোর্টস-১ : মোহন বাগান-১
(সুময়) (সন্দীপ)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তখনও গোল হয়নি। কাচের বক্সে ঘন ঘন হাতঘড়ি দেখছেন সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, মানস ভট্টাচার্য। সবুজ-মেরুন সদস্য গ্যালারিতে বসা শিলটন পালও উদ্বিগ্ন। সংযোজিত সময়ে সন্দীপ মালিক জাল কাঁপাতেই উচ্ছ্বাস শুরু সমর্থকদের। তা অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শেষ মুহূর্তে ১-১ করলেন সুময় সোম। ঘরোয়া লিগে মোহন বাগান বনাম ইউনাইটেড স্পোর্টস ম্যাচ ড্র। তিন প্রধানকেই আটকে দিল লালকমল ভৌমিকের দল।
ম্যাচের পর দামি গাড়িতে মাঠ ছাড়লেন সাহাল, আপুইয়ারা। তখন ক্যান্টিনে স্টু ও পাউরুটি খেয়ে ইউনাইটেড ফুটবলাররা পা বাড়ালেন প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশনের দিকে। সেদিকে চেয়ে ইউনাইটেড কর্তা নবাব ভট্টচার্যের মন্তব্য, ‘এটাই ভারতীয় ফুটবল। তবে ফের প্রমাণিত আইএসএল মঙ্গলগ্রহের টুর্নামেন্ট নয়। চেষ্টা করলে বাঙালিরাও পারে।’ ভুল বলেননি তিনি। সাহাল, শুভাশিস, মনবীরদের যা স্যালারি তা গোটা ইউনাইটেডের বাজেট। অথচ ৯০ মিনিটে তার প্রতিফলন কোথায়? গুরুদশাতেও প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে আসা সোনারপুরের শুভ্রাংশু রায়ের মতো সমর্থকরা বাকরুদ্ধ। তাঁদের আবেগের দাম কে দেবে?
গণেশ চতুর্থীর দুপুর। মোহন বাগান মাঠে ভিড় হয়েছিল ভালোই। শুরুর আধঘণ্টায় তিনবার গোলমুখ খুলেছিল গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। অরক্ষিত সাহাল গোল করতে ব্যর্থ। দীপক টাংরির ২৫ গজের শট দুরন্ত সেভ করলেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার সৌরভ সামন্ত। এটুকু বাদে শেপ বজায় রাখল লালকমলের দল। দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। প্রশান্ত দাস, অমরেন্দু চক্রবর্তী, ভিকি থাপারা বল ওড়ানোর বদলে হোল্ড করলেন। এরইমধ্যে ৬০ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফসকান ইউনাইটেড গোলরক্ষক। মনবীর রিসিভ করলেই গোল। তাড়াহুড়োয় পা হড়কালেন পাঞ্জাবি ফুটবলার। এরপর আপুইয়া, সায়নদের নামিয়ে ঝাঁঝ বাড়ানোর চেষ্টা করলেনন বাস্তব। কিন্তু সেই তাগিদ কোথায়? মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও বহুবার শেষ মুহূর্তে জাল কাঁপিয়ে দলকে উতরে দিতেন সুব্রত ভট্টাচার্য। কর্পোরেট ফুটবলে আবেগ নেই। থাকলে দায়সারা ফুটবলের বদলে দায়িত্ব নিতেন শুভাশিসরা। যাই হোক, সংযোজিত সময়ে কিয়ানের কর্নার গ্রিপ করতে গিয়ে ফসকান সৌরভ। ঠান্ডা মাথায় বল জালে ঠেলেন সন্দীপ মালিক (১-০)। অন্তিম লগ্নে ফ্রি-কিক পায় ইউনাইটেড। জটলা থেকে ব্যাক হেডে গোল সুময়ের (১-১)। শেষ ম্যাচে মোহন বাগানের সামনে মহমেডান। তার আগে আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, সাহাল, মনবীর, অভিষেকদের জাতীয় শিবিরে যাওয়ার কথা।