


মস্কো: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে তৎপর আমেরিকা। তাই রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের উপর চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার দাবি, রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করতেই এই সিদ্ধান্ত। ওয়াশিংটনের এহেন আজব যুক্তি নিয়ে রীতিমতো হতবাক ভারত। মস্কো সফর চলাকালীন বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সাংবাদিক সম্মেলেন তিনি জানান, রাশিয়ার থেকে সবথেকে বেশি তেল কেনে চীন। ভারত নয়। আর এলএনজি’র সবথেকে বড় ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমেরিকার যুক্তি উড়িয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘বিশ্বে জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারতকে যা দরকার তা করতে হবে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টিও রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এটাই বলে আসছে আমেরিকা। তাই এনিয়ে যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর। ২০২২ সালের পর রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যর পরিমাণ সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এটাও ঠিক নয়। আমার মনে হয়, দক্ষিণের বেশকিছু দেশের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য অনেক বেশি বেড়েছে।’ তাহলে মার্কিন শুল্কনীতিতে শুধু ভারতকেই নিশানা করা হল কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জয়শঙ্কর।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমানে শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। শুল্ক যুদ্ধের জেরে আরও কাছাকাছি এসেছে ভারত-রাশিয়া। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর অনেকটাই নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই আবহে বৃহস্পতিবার রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জয়শঙ্কর। সাক্ষাৎ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও। লক্ষ্য রাশিয়া-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ‘রাজনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা। এই বৈঠকে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। গত বছর জুলাই মাসে কাজানে বার্ষিক সম্মেলন করেছিলেন দু’দেশের নেতা। চলতি বছরের শেষে ফের বৈঠক হবে। তারই প্রস্তুতি চলছে।’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দিয়েছে রুশ বিদেশ মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের আবহে দুই বিদেশমন্ত্রীর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।