


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে পরমাণু শক্তিপ্রদর্শনের দামামা! ৩৩ বছর পর স্বেচ্ছাআরোপিত শপথের অবসান ঘটাচ্ছে আমেরিকা। বুধবারই ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, সাবমেরিন থেকে সফলভাবে। শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র সংবলিত পসেইডন টর্পেডো পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। এই অস্ত্র বিশ্বের আর কোনও দেশের কাছেই নেই। আর ২৪ ঘণ্টার কাটতে না কাটতেই পালটা ঘোষণা এসেছে মার্কিন মুলুক থেকে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন, আমেরিকা আবার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে। এদিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় সবথেকে বেশি পরমাণু অস্ত্র আছে আমেরিকার কাছে। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে। চীন অনেক পিছনে। যেহেতু অন্য রাষ্ট্রগুলি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছে, তাই আমিও যুদ্ধদপ্তরকে বলেছি যত শীঘ্র সম্ভব পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুনিয়ার প্রথম আণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল আমেরিকা। প্রাণ হারিয়ে ছিলেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সেই সময় রাশিয়া ও আমেরিকা মিত্রশক্তির বন্ধনে আবদ্ধ থাকলেও ক্রমেই সেই সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এবং শুরু হয় এক অন্তহীন এক শীতল যুদ্ধের যুগ। কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলি ছিল একদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে। অন্যদিকে পুঁজিবাদী আমেরিকার সহযোগী ইউরোপ। সেই আবহেই ১৯৯২ সালে শেষবার নেভাদায় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে প্রযুক্তিগতভাবে তারা পরমাণু অস্ত্রের কার্যকারিতার গবেষণামূলক প্রয়োগ করেছে। কিন্তু কোনও নিউক্লিয়ার সাইট নির্বাচন করে পরমাণু বোমা পরীক্ষা করেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে যেন দ্বিতীয় ঠান্ডা যুদ্ধ যুগের সূত্রপাত হয়েছে। আর এই প্রেক্ষিতে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা কার্যত অঘোষিত দামামা বাজিয়ে দিয়েছে পরমাণু যুদ্ধের। বস্তুত ট্রাম্পের এই ঘোষণা তথা হুঁশিয়ারি এসেছে ঠিক চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের প্রাক্কালে। এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণার পরই। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের পরমাণু অস্ত্রের আপডেট করার জন্য এটা দরকার। পরমাণু অস্ত্রের তীব্রতম ধ্বংস ক্ষমতার কারণেই আমি এমন পরীক্ষাকে ঘৃণা করি। কিন্তু এছাড়া উপায়ও নেই।’ অর্থাৎ ট্রাম্প বার্তা দিলেন যে, রাশিয়া যেভাবে একের পর এক পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছ. এবং সেটা আবার বারবার দম্ভের সঙ্গে তা ঘোষণা করছে, তার কড়া জবাব দিতে চান। আর সেই কারণেই ৩৩ বছর পর অবশেষে আবার পরমাণু অস্ত্রের হুঁশিয়ারি এবং চরমতম আশঙ্কার এক আবহ তৈরি করতে তিনি বাধ্য হলেন। রাশিয়া এবং আমেরিকা যদি এভাবে লাগাতার অস্ত্র পরীক্ষা করতে থাকে, তাহলে ‘কম্প্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি’ (সিটিবিটি) কার্যত ধসে পড়বে। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলি কোনওরকম পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে পারবে না বলেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০২০ সালে চীনের কাছে ছিল ৩০০ নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড। এখন রয়েছে ৬০০। আমেরিকার কাছে রয়েছে ৫ হাজারের বেশি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড। রাশিয়ার কাছেও প্রায় এরকমই। ভারতের কাছে রয়েছে ১৮০ থেকে ২১০টি।