


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিতর্কের জেরে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের সংশোধন তো দূরঅস্ত, ক্ষমা প্রার্থনা পর্যন্ত করেনি কেন্দ্র। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান (সোশ্যাল সায়েন্স) বইয়ে খোদ দেশের বিচার ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রকের আওতাধীন এনসিইআরটি। অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’র মতো অধ্যায়। এমনকি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট সহ দেশের বিভিন্ন আদালতে ক্রমাগত জমতে থাকা মামলার পাহাড়ের প্রসঙ্গও। স্বাভাবিকভাবে বইটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্টও। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বুধবার এ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যত বড় প্রভাবশালীই হোন, এই প্রতিষ্ঠানের অবমাননা আমি করতে দেব না। এব্যাপারে প্রচুর কল, মেসেজ পাচ্ছি। আমি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এতে হস্তক্ষেপ করছি। ঠিক একদিন অপেক্ষা করব!’
এরপরই জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত বই থেকে ‘বিতর্কিত’ অধ্যায় সরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে মোদি সরকার। এনসিইআরটি সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই যে সব বই প্রকাশিত, সেগুলির বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পুরোটাই ফেরত আনা হচ্ছে। শীঘ্রই ওই অধ্যায় বাদ দিয়ে নতুন করে বইটি ছাপা হবে।
সংশ্লিষ্ট বইটির ‘করাপশন ইন দ্য জুডিসিয়ারি’ অধ্যায়ে লেখা হয়েছে যে, আইনজীবীদের একাধিক কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলতে হয়। তা শুধুমাত্র আদালত কক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। বাইরেও এর প্রভাব থাকে। বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির সম্মুখীন হতে হয়। ফলে সমাজের
গরিব এবং পিছিয়ে পড়া মানুষকে ন্যায়বিচার পেতে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এছাড়া বইয়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হলে সংসদ পদক্ষেপ করতে পারে। ইমপিচমেন্ট মোশন এনে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে বরখাস্ত করতে পারে। কিন্তু তা পুরোটাই তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এমন অন্তত ১ হাজার ৬০০টি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ গৃহীত হয়েছে বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। এসংক্রান্ত ইস্যুতে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের একটি মন্তব্যও রয়েছে বইয়ে। পাশাপাশি রয়েছে মামলার পাহাড় জমে যাওয়াও প্রসঙ্গও। উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮১ হাজার, হাইকোর্টগুলিতে প্রায় ৬২ লক্ষ ৪০ হাজার এবং বিভিন্ন জেলা-নিম্ন আদালতে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ মামলা বর্তমানে ঝুলে রয়েছে।