


শ্রীনগর: পাহাড়ি রাস্তায় তরতরিয়ে ছুটছিল যাত্রীবাহী বাস। রাস্তার বাঁকে কোনোভাবে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে খাদে পড়ে যায় বাসটি। সোমবার কাশ্মীরের উধমপুর যাওয়ার পথে রামনগর এলাকার কাগোর্ট গ্রামের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত ২১ জনের। আহত কমপক্ষে ৫১ জন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জম্মও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সহ আরও অনেকে। নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন মোদি। নিহতদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা, সামান্য আহতদের জন্য ২৫,০০০ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও।
অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে এই বাসেই ফিরছিলেন উধমপুরের বাসিন্দা নিতু। এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচেছেন দুজনেই। তবে আতঙ্ক কাটেনি এতটুকু। জানান, ‘সকাল ১০ টা নাগাদ আচমকা প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি। তারপর বাসের যাত্রীদের আর্ত চিৎকার। সেনা জওয়ানরা না থাকলে বাঁচতাম না।’ একইভাবে সেনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অন্যান্য জীবিত যাত্রীরাও। সময়মতো উদ্ধারের জন্য অনেকের প্রাণ বেঁচেছে।
ওই সময় সেনার একটি কনভয় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন জওয়ানরা। সঙ্গে স্থানীয়রা। প্রথমে জীবিত যাত্রীদের বার করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা হয়। কনভয়ের নেতৃত্বে থাকা এক জওয়ান জানান, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বাসটিকে গড়িয়ে পড়তে দেখেই তাঁরা তৎপর হন। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বাসটি নীচে পড়ার আগে একটি অটোরিকশকে চাপা দিয়ে উলটে যায়। অটোরিকশর আরোহীরাও আহত হয়েছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, বাসটিতে অন্তত ৬৫ জন যাত্রী ছিলেন। উধমপুর-রিয়াসি রেঞ্জের ডিআইজি শিব কুমার শর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও চারজনের।’ পরে উধমপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। ডিআইজি জানান, উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও উল্লেখযোগ্য সহায়তা করেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে পরে বাসটিকে সোজা করা হয়। রামনগর এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: পিটিআই