


বেলগ্রেড, ২৯ জুন: প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গণরোষ আছড়ে পড়ল রাজধানীতে। পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়াল আমজনতা। যার ফলে উত্তপ্ত সার্বিয়া। মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই দেশে এখন কার্যত জরুরি অবস্থা। প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের শাসনের অবসান চেয়ে দ্রুত নির্বাচন ঘোষণার দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে আমজনতা। সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের ভিড় জড়ো হয়েছিল গতকাল, শনিবার(স্থানীয় সময়)। সরকার বিরোধী এই মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিস। যাকে কেন্দ্র করে আরও অশান্তি বাঁধে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিস, রবার বুলেটও ছোড়া হয়। অসংখ্যা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সার্বিয়ান পুলিস। মূলত সার্বিয়ার ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। দীর্ঘ একমাস ধরে আন্দোলন চলছে। বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ও।
গতকাল, শনিবার(স্থানীয় সময়) সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বেড়ে যায়। ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হন সার্বিয়ার সাধারণ নাগরিকরা। যদিও এই আন্দোলনকে পাত্তা দিচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। তাঁর দাবি, বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে এই আন্দোলনের পিছনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘ওরা সরকার ফেলতে চেয়েছিল,কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।’ সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এইধরণের বিক্ষোভ কড়া হাতে দমন করা হবে। আগামী ২০২৭ সালে সার্বিয়ায় সাধারণ নির্বাচন রয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্টের আমলে দুর্নীতি, অপরাধের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে ইউরোপের এই দেশটিতে। এমনকী সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টাতেও অভিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ভুচিচ। সেই কারণেই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পতন চাইছে সেই দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা। সেই আন্দোলনে এবার যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন সার্বিয়ার আমজনতাও।