


রিও ডি জেনেইরো: প্রাথমিকভাবে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে বাজিমাত। কনজারভেটিভ প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদে প্রত্যাবর্তন বর্ষীয়ান বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার। চার বছর আগে ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারোকেও পরাস্ত করেছিলেন তিনি। লুলার কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ বলসোনারো ব্রিগেডের এই পরাজয় লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে খুবই উল্লেখযোগ্য। কারণ, লাতিন আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান মার্কিন প্রভাবের মধ্যেও এই অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল বামপন্থী নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা প্রকাশ করল। ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচক বলে পরিচিত লুলাকে জয়ের পর ‘প্রিয় বন্ধু’ সম্বোধন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
ভোট গণনার শেষে ব্রাজিলের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫১.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন অশীতিপর বামপন্থী নেতা লুলা। প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর থেকে ৪৪ লক্ষ বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। জেলবন্দি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র তথা বর্তমান সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ভোটের প্রচারপর্বে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিল, জয়ী হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার সুফল ঘরে তোলা হবে। অন্যদিকে, ভারতের মতো ব্রাজিলের উপরও চড়া শুল্ক আরোপ করায় প্রচারপর্বে আমেরিকার মুণ্ডপাত করেছিলেন লুলা। আমেরিকার ব্রাজিল বিরোধী নীতির আগাগোড়া তীব্র সমালোচনা করে গিয়েছেন তিনি।
এই নিয়ে চতুর্থবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চলেছেন লুলা। এর আগে ২০২২, ২০১০ ও ২০০৩ সালে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন তিনি। লুলার এই জয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া তাঁর সমর্থকদের মধ্যে।