


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খড়্গপুর শহরে হচ্ছে ‘ভারত মাতা পূজন’। এই উপলক্ষ্যে রসিদ ছাপিয়ে ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই রসিদে আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম রয়েছে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের। সেই রসিদ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল রেল শহরে। অভিযোগ, বিজেপির খড়্গপুর শহরের উত্তর মণ্ডল নেতৃত্বের তরফেই এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। যদিও, রসিদে পুজোর উদ্যোক্তা হিসেবে নাম রয়েছে ‘ভারত মাতা জনসেবা কার্যালয়’-এর। এ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। মঙ্গলবার উত্তর মণ্ডল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মণ্ডল। বিষয়টি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমিতবাবু। যে কোনো ধরনের তোলাবাজি, অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ফলে এমন আবহে রাজ্যের মন্ত্রীর নাম সহ চাঁদার রসিদ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি জেলা নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, খড়্গপুর শহরের ১৬ নং ওয়ার্ডের ধোবিঘাটে গত দু’-তিনদিন ধরে অনুষ্ঠিত চলছে ভারত মাতা পূজন। বসেছে মেলাও। আর সেই অনুষ্ঠানের জন্যই চাঁদার রসিদ ছাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। মঙ্গলবার এই বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মণ্ডল বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই মণ্ডল নেতৃত্বকে সতর্ক করেছি। ভারত মাতা পূজন করতেই পারেন। চাঁদা তুলে পুজো করছেন সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু, চাঁদার রসিদে মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করাটা একেবারেই ঠিক হয়নি। না জেনেবুঝেই করেছেন। আমরা মন্ত্রীকেও জানিয়েছি বিষয়টি।’ ১৬ নং ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার তথা জেলার সহ সভাপতি অভিষেক আগরওয়াল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’ জেলা সম্পাদক মনোজ দে বলেন, ‘জানি না দিলীপদার অনুমতি নিয়ে তাঁর নাম রাখা হয়েছে কি না! দলের ভাবমূর্তি খারাপ হয় এমন কাজ আমাদের না করাই উচিত।’ এবিষয়ে বিজেপির অভিযুক্ত মণ্ডল সভাপতি টিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। ফোন ধরেননি দিলীপ ঘোষও। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘একদিকে ওঁদের রাজ্য সভাপতি শুদ্ধিকরণের বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার দলে তৃণমূলীকরণ চলছে।’