


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং দুই শিশু সহ ৯ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ ও প্রশাসন। অকেজো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সারানোর ব্যবস্থা না করে ফেলে রাখা সহ একাধিক গাফিলতির অভিযোগে মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে তথা ম্যানেজার কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতদের রামপুরহাট আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশ ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন করে। বিচারক ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। আদালতের সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘ম্যানমেড বিপর্যয়’ বলে চিহ্নিত করে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে পর্যন্ত খবর দেয়নি। ফায়ার এগজিট ও বেরোনোর মূল গেট লক করে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র খারাপ জেনেও দীর্ঘদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া গোটা রিসেপশনে দাহ্য ফাইবার দিয়ে ফল্স সিলিং করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারাপীঠ দমকল স্টেশন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি মামলা রুজু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস আইনের ১১ জে (ফায়ার সার্ভিস আইনের শর্ত অমান্য) এবং ১১ এল (ফায়ার সেফটির নিয়ম না মেনে মানুষের জীবন বা জননিরাপত্তার প্রতি ঝুঁকি সৃষ্টি করা) এবং ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৭ (দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে চরম গাফিলতি), ১০৫ ধারা (অপরাধমূলক নরহত্যা যা খুনের সমতুল্য নয়) এবং ৩ (৫) (যৌথ অপরাধমূলক দায়বদ্ধতা) ধারা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাণ বাঁচাতে কেউ হোটেলের পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন, এই আশঙ্কায় এদিন সকালে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের একটি দল বোট চালিয়ে ও কাঁটা ফেলে পুকুরে তল্লাশি চালায়। তবে, সেখান থেকে কোনো দেহ উদ্ধার হয়নি।