


শুভাগত জোয়ারদার: ‘বার্ড হিট’—এই শব্দটাই এখন পাইলটদের কাছে মারাত্মক আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইলট নির্দিষ্ট পথে বিমান নিয়ে যাচ্ছেন, সেইসময় যদি পাখির দল চলে আসে, তাহলে বড় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। তখন ওই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা একজন পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। পাইলটের পক্ষে কোনোভাবেই বোঝার উপায় থাকে না, পাখির দল ডান কিংবা বাঁ—কোনদিকে যাবে। ফলে পাইলট যথাসম্ভব উপস্থিত বুদ্ধির জোরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও পাখির গতিবিধি কারও পক্ষেই অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। ফলে অন্যরকম কিছু ঘটেও যায়। পাখির আঘাতের ফলে বড়সড় দুর্ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে। আমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার পিছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ‘বার্ড হিট’ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার রাতে বিমানটি প্যারিস থেকে দিল্লি আসে। তারপর বৃহস্পতিবার সকালে বিমানটি দিল্লি থেকে আমেদাবাদ যায়। এরপর আমেদাবাদ থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। ফলে বিমানটি ওড়ার আগে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা হয়েছে। বিমানে প্রচুর পরিমাণ জ্বলানি ছিল। যাত্রীসংখ্যাও পূর্ণ ছিল। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ছবি, ভিডিও থেকে যেটুকু জানা গিয়েছে, টেক অফের পরই ঘটে বিপর্যয়। ৬০০ ফুট উচ্চতায় গিয়েছিল বিমানটি। সেখানে যেতে সময় লেগেছিল ৩০-৪০ সেকেন্ড। ‘মে ডে কল’ হয়েছে, মানে ককপিটে রেড অ্যালার্ম ওয়ার্নিং।
এই দুর্ঘটনার কারণ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসবে। তবে যে সম্ভাবনাগুলি উঠে এসেছে, তাতে বার্ড হিট বা পাখির আঘাত হতেই পারে। আমাদাবাদের আকাশপথে পাখির বিষয়টি আছে। কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রে পাখির বাড়বাড়ন্ত আছেই। ফলে আমাদাবাদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির সামনে একদল পাখি চলে আসার সম্ভাবনা থাকছেই। ১০-১২টি পাখি বা তার বেশি পাখির ঝাঁক যদি ওইসময় চলে এসে থাকে, তা মোকাবিলা করা পাইলটের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক ওই পরিস্থিতিতে বিমানটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়াও কার্যত অসম্ভব। বেঙ্গালুরুতে রয়েছে প্রচুর বাদুড়ের উপদ্রব। ফলে সেখানেও সচেতনভাবে বিমান চালাতে হয়।
অন্যদিকে, বিমান দুর্ঘটনার পিছনে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও থাকে। ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। জ্বালানি ট্যাঙ্কে কোনও সমস্যা হতে পারে। জ্বালানি যদি ইঞ্জিনে না পৌঁছায়, তাহলেও সেটা বড় সমস্যা হয়।
পাখির আঘাতের ফলে ইঞ্জিনের ঘূর্ণায়মান অংশ বিকল হয়ে যেতে পারে। তবে টেক অফের মাটির কাছাকাছি ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গিয়ে থাকলে এটি নিঃসন্দেহে মারাত্মক ঘটনা। বিমানে আগুন লেগেছে পরে। তবে প্রথমে আগুন লেগেছে এমনটা প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না। কারণ বিমানটি টেক অফ করার পর কোনও ধোঁয়া দেখা যায়নি। তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ উঠে আসবে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার থেকে। এখন আমাদের অপেক্ষা ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের তথ্যের দিকে। আজেকর আধুনিক ব্যবস্থাপনায় সব তথ্যই আগামী দিনে সামনে আসবে।
(লেখক: অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন)