


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুরসভা নির্বাচনের আগে বারাসত সাংগঠনিক জেলায় দলীয় বিধায়কদের বার্তা দিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের সাফ কথা, জেলা নেতৃত্বকে এড়িয়ে সাংগঠনিক রাজনীতি করা চলবে না! ব্যক্তি-প্রভাব নয়, শেষ কথা বলবে সংগঠন। দলের অন্দরে বাড়তে থাকা মতভেদ দূর করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। গত ৯ জুলাই বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটির বৈঠকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সাধারণ সম্পাদিকা শশী অগ্নিহোত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত সাংগঠনিক জেলার একাধিক বিধায়কের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তিকর। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই জেলা সংগঠনকে কার্যত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো সাংগঠনিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিধায়কদের একাংশ। ফলে এক জেলায় একাধিক ক্ষমতা কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে নীচুতলার সংগঠনেও। কর্মীদের একাংশ বিভ্রান্ত, আর বিরোধীদের হাতেও পৌঁছে যাচ্ছে দলের অন্দরের বিভাজনের খবর। আর এই পরিস্থিতিতে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের কার্যত সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জেলা সংগঠনের। জেলা নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে কোনো কর্মসূচি বা রাজনৈতিক উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।
পুরভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বদলে ঐক্যের ছবি তুলে ধরতে চায় রাজ্য নেতৃত্ব। এ নিয়ে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব আমাদের বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছে। সাংগঠনিক কাজকর্মকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বারাসত সাংগঠনিক জেলার আওতায় রয়েছে দেগঙ্গা, হাবড়া, অশোকনগর, বারাসত, মধ্যমগ্রাম, রাজারহাট-নিউটাউন এবং বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্র। দেগঙ্গা ও মধ্যমগ্রাম ছাড়া বাকি সবকটি বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জেলায় অন্দরের টানাপড়েন থামাতে না পারলে পুরভোটে তার মূল্য চোকাতে হতে পারে বিজেপিকে। তাই ভোটের আগে সংগঠনের ভিতকে মজবুত করতে কড়া অবস্থান নিল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। -নিজস্ব চিত্র