


নয়াদিল্লি: সীমান্তে উত্তেজনা কমানোই ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতির প্রাথমিক শর্ত। সফররত চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন এস জয়শঙ্কর। সোমবার নয়াদিল্লিতে দু’দিনের সফরে এসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াং। সীমান্ত সমস্যা সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয় দু’পক্ষের। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা তাঁর।
এদিনের বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘বেজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের ইতিবাচক আলোচনার জন্য সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমন অত্যন্ত জরুরি। কারণ এধরনের উত্তেজনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্তরায়। সমস্যা সমাধানে দু’পক্ষকেই স্পষ্ট ও গঠনমূলক অবস্থান নিতে হবে। আমাদের পারস্পরিক মর্যাদা, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থরক্ষার কথা ভাবতে হবে। মতভেদ যেন প্রতিযোগিতা বা সংঘর্ষের কারণ না হয়।’ দুই প্রতিবেশী দেশের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে ওঠে সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গও। জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। আশা করছি ভারত ও চীনের মধ্যে সহযোগিতামূলক স্থিতিশীল সম্পর্ক তৈরি হবে। যা আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষিত করবে।’ আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর বিষয়টিও দুই বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে আসে। জয়শঙ্কর বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।’ অন্যদিকে বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগরে বেজিংয়ের সার্বভৌমত্বের পক্ষে সওয়াল করেন সেদেশের বিদেশমন্ত্রী।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন চীনা বিদেশমন্ত্রী। তার আগে সকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সেখানে দু’দেশের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলেই জানা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি দোভাল ও ইয়াং। চলতি মাসেই চীন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে ইয়াংয়ের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।