


রূপাঞ্জনা দত্ত. লন্ডন: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করল ব্রিটেন। আজ থেকে কার্যকর হল ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে নতুন করে অর্থনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার জন্য এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছিল ব্রিটেন। এবার ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সঙ্গে চুক্তি করল ব্রিটিশ সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে কেবল শুল্ক হ্রাস হবে এমন নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং গভীর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নেবে। ভারতের চড়া হারে শুল্ক এবং নানা জটিল বিধিনিষেধের ফলে ব্রিটিশ রপ্তানিকারকদের কয়েক দশক ধরেই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন চুক্তিতে সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। ভারতে ব্রিটিশ পণ্যের উপর গড় শুল্ক হার প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৩ শতাংশে নেমে আসবে। এর ফলে ব্রিটেনের বার্ষিক জিডিপি ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মোট পরিমাণ আনুমানিক ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। লাভবান হবে ভারতও। কারণ ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্য শুল্কছাড়ের সুবিধা পাবে। এতে পোশাক ও কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে বাড়তি সুবিধা মিলবে। সেইসঙ্গে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যাতায়াত আরও সহজ হবে। বছরে ১৮০০ ভারতীয় শেফ ও যোগব্যায়াম প্রশিক্ষকের জন্য বিশেষ ভিসার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়াও রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা। এতে থাকছে হাজার হাজার পেশাদারের দ্বৈত করের ঝামেলা থেকে সুরাহার ব্যবস্থা।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে ব্রিটেনের আঞ্চলিক শিল্পগুলি সরাসরি ভারতের বাজারের নাগাল পাবে। অটোমেটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে স্কচ হুইস্কি এবং প্রসাধন সামগ্রীর মতো পণ্যের উপর শুল্ক ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে চলেছে। এর ফলে ওয়েলসের ম্যানুফাকচারিং শিল্প এবং স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত ডিস্টিলারিগুলির আর্থিক উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯৯ শতাংশই সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হওয়ায় ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা তার সুফল পাবে। ভারত থেকে আসা পোশাক, জুতো এবং জীবনদায়ী ওষুধের পণ্য আরও সাশ্রয়ী হচ্ছে। এফটিএ-তে ইলেকট্রনিক চুক্তিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কাগজবিহীন বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে।