


নয়াদিল্লি ও দুবাই: ‘মৃত্যুকূপ’ হরমুজ প্রণালী! ফের প্রাণহানি ভারতীয় নাবিকের। গতমাসে একটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছিল। আর এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দু’টি ভেসেলে আছড়ে পড়ল ইরানের ক্রুজ মিসাইল। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় নিহত এক ভারতীয় নাবিক। জখম আরও অনেকে। এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আক্রান্ত দুই জাহাজে ৩০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের প্রবীণ কূটনীতিকদের তলব করে প্রতিবাদও জানিয়েছে ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকে
হাজির হওয়া ইরানি কূটনীতিকদের এই দলেই ছিলেন উপরাষ্ট্রদূত মহম্মদ জাভেদ হোসেনি।
ইরান ও আমেরিকার সংঘাতে নতুন করে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। সোমবারই ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ ফের বহাল ও হরমুজে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরই এদিন ভোরে ইরানের হামলা চালায় আমেরিকা। পালটা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সহযোগী দেশগুলিতে আক্রমণ চালিয়ে জবাব দেয় ইরান। সবমিলিয়ে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে আমিরশাহির জোড়া ভেসেলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভারতীয় নাবিকদের হতাহতের ঘটনা ঘটল।
এদিন বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজে এমটি আল বাহিয়া এবং এমটি মোম্বাসা নামে দু’টি জাহাজের উপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জাহাজ দু’টির মোট ৪৬ জন নাবিকের মধ্যে ৩০ জনই ছিলেন ভারতীয়। এমটি আল বাহিয়া জাহাজের ১২ ভারতীয়র মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত আরও একজন। মোম্বাসা জাহাজের ১৮ ভারতীয়ের মধ্যে আহত ৯ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাবিকদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সেদেশের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। নাবিকদের নিশানা করে এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল ব্যাহত করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।’ পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশ মন্ত্রক ফের সংযম ও কূটনীতির পথে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ওমান জলসীমানায় হরমুজের দক্ষিণাংশে জোড়া জাহাজ আক্রান্ত হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে আমিরশাহিও। তারা পালটা জবাবের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। যদিও তেহরানের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ওই জাহাজ দু’টি নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে হরমুজ পেরনোর চেষ্টায় ছিল। মাইন সংকুল রুটে এধরনের ঝুঁকির যাত্রায় প্ররোচনা দিচ্ছে আমেরিকা।