


মুম্বই: মা কোথায়? কখন ফিরবে? মা তো বলেছিল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসবে। পরিবারের বাকিদের সমানে এই প্রশ্নই করে চলেছে খুদে। কিন্তু আজ তার এই সহজ প্রশ্নটা বড্ড কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারও কাছে কোনও উত্তর নেই। লাগাতার মায়ের ফোনে ফোন করে চলেছে সে। কিন্তু ওপার থেকে কোনও জবাব আসছে না। আমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কেবিন ক্রু অপর্ণা মহাদিক। ডিনএ পরীক্ষা ও বাকি কাজ সারতে স্বামী এখন আমেদাবাদে। আর মহারাষ্ট্রের বাড়িজুড়ে মাকে এদিক ওদিক খুঁজে চলেছে তাঁর মেয়ে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ওই ছোট্ট মাথায় ঢোকেনি। কী ঘটেছে, কতজন মরেছে, তা সে বোঝে না। শুধু বোঝে মা ফেরার কথা দিয়েছিল। কিন্তু এখনও ফেরেনি।
অপর্ণা মহাদিক এনসিপি সাংসদ সুনীল তাতকারের আত্মীয়। বিষয়টি জানতে পেরেই শোকপ্রকাশ করেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অদিতি তাতকারে। তাঁর কথায়, ‘আপাতত মেয়েটিকে কিছু জানানো হয়নি। ডিএনএ রেজাল্ট আসার পর সময় করে করে ধীরে ধীরে সবটা বলা হবে। কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। ও খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরিবার-কাজ দুটোই সমানভাবে চালিয়ে নিয়ে যেত। কয়েকদিন আগেই একটি জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। দারুণ মজা হয়েছিল সেখানে। এক মুহূর্তেই সব ওলট-পালট হয়ে গেল। ’
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শ্রদ্ধা ধাওয়ান নামে আর এক ইন-কেবিন সুপারভাইজার। উত্তর-পূর্ব মুম্বইয়ের বাসিন্দা তিনি। বিমান ছাড়ার আগে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। বলেছিলেন-শীঘ্রই বাড়ি ফিরবেন। আর ফেরা হল না।