


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলাবাজি, মারধর সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সজল দাস। বুধবার তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভে বিজেপি কর্মীদের তুলনায় তৃণমূল কর্মীদের সংখ্যা ছিল বেশি। সজল ও তাঁর দলবলের হামলায় চোখ হারানো তৃণমূল কর্মী নন্দী বিশ্বাস এদিন নিউ বারাকপুর থানার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক সজলকে ছ’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ বারাকপুর থানার পুলিশ সজলবাবুকে বিলকান্দা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের পাশাপাশি বিলকান্দা-২ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতিও ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি আগে চোলাই মদের ব্যবসা করতেন। ২০২১ সালে ব্লক ও জেলা নেতৃত্বকে ম্যানেজ করে তিনি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি হন। এরপর গত পাঁচ বছরে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এলাকায় অত্যাচার শুরু করেন। বিরোধীরা তো বটে তৃণমূলের বড়ো অংশ তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। জোর করে জমি দখল, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া জমির দালালি, পুকুর ভরাট, তোলাবাজি সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে তাঁর চারতলা বার কাম হোটেল সহ নামে বেনামে বহু সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিন দুপুরে তাঁকে নিউ বারাকপুর থানা থেকে প্রিজন ভ্যানে বারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন বিলকান্দা, লেলিনগড় সহ বিভিন্ন এলাকার বহু বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থক হাজির হন। অনেকে ডিম নিয়ে হাজির ছিলেন। তবে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশি পদক্ষেপও ছিল নজরকাড়া। প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান হাজির ছিলেন। থানার গেটে প্রিজন ভ্যান ঢুকিয়ে সরাসরি তাঁকে গাড়িতে তুলে দেওয়ায় ডিম ছোড়ার সুযোগ পাননি বিক্ষোভকারীরা। তবে তাঁকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পুরানো তৃণমূল কর্মী নন্দী বিশ্বাস বলেন, ২০২৫ সালে সজল দাস দলবল নিয়ে আমার উপর হামলা চালায়। মেরে আমার একটি চোখ নষ্ট করে দেয়। আমার পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করে। দলের সমস্ত স্তরে অভিযোগ করেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েও সুবিচার পাইনি। সজল গ্রেপ্তার হওয়ায় খুশি হয়েছি।