


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাংসদ বনাম কাউন্সিলার! উত্তর কলকাতা তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বেধে গেল ‘গৃহযুদ্ধ’! বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফল নিয়ে তৃণমূলের দুই জনপ্রতিনিধির বাকযুদ্ধ রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। খবর পৌঁছেছে দলের উপর মহলেও। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে তারা।
বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের কারণ নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে তৃণমূলের অন্দরে। এই আবহে তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দলীয় নেতারা একে-অপরের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া মন্তব্য করে চলেছেন বলে খবর। অভিযোগ, আক্রমণ-পালটা আক্রমণ মাঝেমধ্যেই যাবতীয় শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দলের কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংসদের ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য! সূত্রের খবর, ‘নর্থ কলকাতা এআইটিসি অফিসিয়াল’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শনিবার রাত ১০টা ১৭ মিনিট নাগাদ একটি মন্তব্য করেন উত্তর কলকাতার এক কাউন্সিলার। স্থানীয় তৃণমূল সাংসদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ছিল সব ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। সেই জায়গায় আপনি তো নিজেই ঘরে ঢুকে আছেন। পদ আঁকড়ে বসে আছেন। অনেক হয়েছে। এবার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন।’ সেখানে সাংসদের হয়ে ব্যাট ধরেন তৃণমূলের আর এক মহিলা কাউন্সিলার। সাংসদকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা কাউন্সিলারকে তাঁর পালটা, ‘তোমার বিধায়ক কী করেছে? যার এত পাওয়ার, সে নিজেই দলের কর্মীদের কেস দিয়ে থানায় বসিয়ে রাখত। এখন উনি কোথায়?’ পাল্টা জবাব আসে, ‘উনি এখন আর বিধায়ক নেই। কিন্তু সাংসদ আছেন এবং তিনি উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতি।’
এভাবেই চলতে থাকে দুই কাউন্সিলারের তর্ক। গোটা পর্ব আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে, যখন ‘রেড লাইট এরিয়া’-তে কে গিয়েছেন, কখন গিয়েছেন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তর্ক বাধে। ওই অবস্থায় স্থানীয় সাংসদ গ্রুপে মন্তব্য করেন, ‘এদের একটাই উত্তর— হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার। জবাব দিও না। আমি দিয়ে দেব।’ সাংসদ ‘কুরুচিকর’ ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এখন কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সময়। সেখানে দলের নেতাদের এই ধরনের বাকযুদ্ধ প্রত্যাশিত নয়। বিজেপির খোঁচা, ‘তৃণমূল আসলে হারের ধাক্কায় বেসামাল হয়ে পড়েছে।’