


অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: পুরানো দিনে বিভিন্ন এলাকা কেমন দেখতে ছিল। পঞ্চাশ থেক সত্তর আশি দশকের মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল। কাটোয়া মহকুমা জুড়ে তা এখন সমাজ মাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে কাল্পনিক ছবি তৈরি করে সমাজ মাধ্যমে তুলে ধরছে জেন জি প্রজন্ম৷ আর নেটিজেনদের বাহবা কুড়াচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরের নানা দৃশ্য তুলে ধরছেন নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা৷
এআই গ্রাফিক্স করে যে কোনো এলাকার কাল্পনিক সাদা-কালো চিত্র তৈরি করা হচ্ছে৷ পুরানো দিনে সেইসব এলাকা দিয়ে কোন যানবাহনে মানুষ যাতায়াত করতেন। মানুষজন কেমন পোশাক পরতেন৷ তখনকার সময়ের এলাকার বাজারহাট কেমন ছিল৷ তা নিয়েই এখন স্মৃতি রোমন্থন চলছে। ১৯৫০ সালের কেতুগ্রামের জ্ঞানদাস কান্দরা, পাঁচুন্দি, ফুঁটিসাঁকো, কাটোয়া জংশন কেমন ছিল, তার কাল্পনিক ছবি তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬০ সালে মঙ্গলকোটের বনকাপাশি থেকে কৈচর যাওয়ার রাস্তায় মানুষজন কীভাবে যাতায়াত করতেন তাও এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ৯০ দশকে মঙ্গলকোটের কৃষ্ণবাটি গ্রাম, কাটোয়া থেকে ছোটো লাইনের ট্রেন বের হচ্ছে সেই দৃশ্য যুবসমাজ উপভোগ করছেন৷ ১৯০০ সালে কাটোয়ার বাঁধমুড়ো পশ্চিমপাড়ার মসজিদের কাল্পনিক ছবিও সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে৷
এছাড়াও ১৯৮০ সালের কাল্পনিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে কাটোয়া শহরের মাধবীতলা এলাকায় গোরুর গাড়ি করে মালপত্র বহন করা হচ্ছে৷ কেতুগ্রামের নিরোল হল্ট স্টেশন, কাটোয়ার পঞ্চাননতলার চিত্র সমাজ মাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ স্বাধীনতার আগে ১৯৪০ সালে মঙ্গলকোটের নতুনহাট, ১০০ বছর আগে কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি জমিদার বাড়ির সামনে দেখা যাচ্ছে পালকিতে মানুষজন যাতায়াত করছে।
কেতুগ্রামের যুবক সঞ্জীব বিশ্বাস, নিমাই সাহা বলছেন, আসলে আমরা নতুন প্রজন্মের ছেলে৷ তাই পুরানো দিনে আমাদের এলাকা কেমন ছিল তা কাল্পনিক ভাবে এআই সফটওয়ারে তৈরি করা হয়েছে। আর সেটাই সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে৷ শুধু মাত্র স্মৃতি রোমন্থন করাই আমাদের মূল উদ্দ্যেশ৷
যুগ বদলেছে৷ চন্দ্রযান-৩ ইতিমধ্যেই পাড়ি দিয়ে ফেলেছে৷ যানবাহন থেকে পোশাকের জগতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে৷ মানুষজন পালকি, গোরুর গাড়ি ছেড়ে এখন টোটো গাড়িতে যাতায়াত করেন৷ কিন্তু সত্তর, নব্বই দশকের মানুষের জীবনযাত্রা সবই কাল্পনিক সামাজিক মাধ্যমে চর্চা করছে নতুন প্রজন্ম৷ আর তাতে সাইবার অপরাধীরাও ফাঁদ পাততে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ কারণ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে নিজের এলাকাকে পুরানো দিনের ছবি পেতে গেলে লিঙ্কে ক্লিক করুন৷ আর সবাই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে গ্রাফিক্স ছবি তৈরি করছেন৷ সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, না জেনে লিঙ্কে ক্লিক করলেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হতে পারে৷ তাই সবাইকে সজাগ হতে পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশও৷