


শ্রীকান্ত পড়্যা, রামনগর: ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিকস্তর থেকেই পাঠ্যক্রমে আমূল বদল চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেটা হলেই আরশোলা, ছারপোকা, দিমাগি নকশাল, টুকরে টুকরে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি—মোকাবিলায় ‘হিট’ লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর উপরও জোর দেন। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে খুব শীঘ্রই তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার, মৃদঙ্গ, খঞ্জনি বাজানোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়েও একাধিক সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে জোড়া কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান। অন্যটি চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ। প্রথমে তিনি রামনগরের বাড়সোলেমানপুরে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আসেন। সেখান থেকে বাগপুরা গ্রামে। দেখা করেন মৃত কল্পনাদেবীর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সাহায্যের আশ্বাস দেন তাঁদের। এখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৪ বছরের নাস্তিক বাম এবং ১৫বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের জামাতি মনোভাব এ রাজ্যের ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল সিলেবাসে অনেক পরিবর্তন আসতে চলেছে। সেখানে সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর ইতিহাস যেমন মুছে যাবে, তেমনি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর মধ্যে ব্রতচারী, এনএসএস এবং এনসিসি ফিরিয়ে আনা হবে।’ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে রাষ্ট্রবিরোধী, সনাতনবিরোধী কিংবা কোনো ধর্মকে আঘাত করে লেখা সরকার রাখবে না।
পঞ্চম শ্রেণি থেকে পাশ ফেল ফেরানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেবাস কমিটির সুপারিশ আমরা মানব। রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। ব্যক্তিগতভাবে আমি স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ, পাশফেল ফিরিয়ে আনা এবং দেশের ও রাজ্যের ইতিহাস ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চারিত করার পক্ষে। ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্যেক বছর অন্তত তিনদিন ধরে বিতর্ক, ক্যুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো কালচারাল ইভেন্ট আনা দরকার। তা হলেই আরশোলা, ছারপোকা, দিমাগি নকশাল, টুকরে টুকরে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি—এসবের মোকাবিলায় হিট লাগবে না। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি এ রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কার্যকর করব।’
রাজ্যে শিল্প এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারের একাধিক পরিকল্পনার কথাও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী এগিয়ে আসছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী। ইতিমধ্যে ৩৩ জনের হাতে জমি তুলে দিয়েছি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও বেসরকারি বিনিয়োগ হবে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা বৃদ্ধির কাজে আমরা বিভিন্ন আইআইটি’র সঙ্গে চুক্তি করছি। আবার আদানি সহ অন্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গেও চুক্তি করেছি। ক্যাম্পাসিং হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফে জব ফেয়ার হয়েছিল। ক’দিন পর সেখানে গিয়ে আমি ৫০০ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেব।’
এদিন রামনগরে বালি পাচার নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রামনগরে বালি নিয়ে যেন কোনো অভিযোগ না আসে। বৈধভাবে বালি উঠবে। সরকারের ঘরে রাজস্ব জমা পড়বে। কোথা থেকে বালি তোলা হবে, সেটা সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ঠিক করবেন। তাঁদের গাইডলাইন মেনে বালি তুলতে হবে। জেলাশাসকের উচিত পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে বালি ঘাট অকশনের মাধ্যমে বিলি করা। তাতে সরকারের ঘরে রাজস্ব জমা পড়বে।’