


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উৎসবের মরশুমেও বাড়ি ফিরতে পারলেন না পূর্ব বর্ধমানের বহু তৃণমূল কর্মী। গত বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বর্ধমান শহরের উদয়পল্লিতে এখনও অনেকেই ঘরের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া বেলকাশ পঞ্চায়েত এলাকার অনেক তৃণমূল কর্মীও ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন। তাঁদের ঘরে ফেরানোর দাবিতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, দেবু টুডু সহ অন্যান্য নেতা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ, ভোটের ফল বেরনোর পর প্রকাশ্যে আক্রমণ চলছিল। এখন অবশ্য ‘সাইলেন্ট অপারেশন’ করা হচ্ছে। কেসের হুমকি দিয়ে তোলাবাজি করার অভিযোগও চলছে বলে অভিযোগ।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, অনেকের কাছে বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ ফোন করে টাকা চাইছে। টাকা না দিলে মিথ্যা কেস দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। যাঁরা কোনোদিন অশান্তিতে জড়ায়নি তাঁদেরও ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের আর এক কংগ্রেস নেতা বলেন, ২০১১ সালে আমাদের দল ক্ষমতায় আসার সময় সিপিএম নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তাঁদের দু’মাসের মধ্যে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে ঘরে ফেরানো হয়। এভাবে কারও কাছে থেকে টাকা আদায় করা হয়নি। এখন সেটাই হচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলের সময় অনেক নেতা অত্যাচার করেছিল। তাঁরা জেলের বাইরে রয়েছেন। অথচ যাঁরা অশান্তিতে জড়াননি তাঁদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বর্ধমান শহরর উদয়পল্লীতে কি চলছে তা সবাই জানে। কিন্তু কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না।
বিজেপি নেতা তথা গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, আমরা কাউকে ঘরছাড়া করেনি। যারা অত্যাচার করেছিল তারা নিজেরাই চলে গিয়েছে। তৃণমূল নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। তারা শ্রমিকদের টাকাও আত্মসাৎ করেছে। জবকার্ড নিজেদের কাছে জমা রেখে টাকা তুলে নিয়েছে। আবাস যোজনা থেকে অন্যান্য প্রকল্পের টাকাও তছরুপ করেছে। গরিব মানুষের সঙ্গে যারা প্রতারণা করেছে তারাই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
বিজেপি একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে তোলাবাজি বা জরিমানা প্রথা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। যারা অন্যায় কাজের যুক্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।