


সংবাদদাতা, বহরমপুর: গত বছরের চেয়ে এবার অর্ধেকেরও কম দামে বাজারে পাঞ্জাবের আলুর বীজ বিকোচ্ছে। তাতেও আলু বসাতে চাষিদের আগ্রহে কার্যত ভাটা। উদ্বেগের সঙ্গে এমনটাই দাবি আলু ব্যবসায়ীদের। আলু থেকে কিছুটা নজর ঘুরিয়ে চাষিরা সর্ষে চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকতে শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, হিমঘরে এখনও প্রচুর আলু মজুত রয়েছে। ডিসেম্বর মাসেও হিমঘরজাত আলু খালি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অথচ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাজার নতুন আলুর আমদানি হতে শুরু করবে। এই পরিস্থিতিতে আগাম আলু চাষে লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়। চাষিদের দাবি, স্বল্প দামে পাঞ্জাবের বীজ মিললেও রাসায়নিক সারের দাম প্রচুর। মজুরি খরচাও বেড়েছে। পাঞ্জাব থেকে প্রতিদিন যে হারে আলু বীজ ঢুকছে সেই তূলনায় বিক্রি কম হওয়ায় পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়েই বীজ পাঠাতে শুরু করেছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়ঞা, কান্দি, বহরমপুর, বেলডাঙা ও ডোমকল মিলিয়ে মোট আটটি হিমঘর রয়েছে। গত বছর আলুর উচ্চ ফলন হয়েছিল। ফলে কোনো হিমঘরই খালি ছিল না। রাজ্যের আলু ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী গত বছর মুর্শিদাবাদে ১২ লক্ষ ২ হাজার প্যাকেট (৫০ কেজি হিসাবে) আলু হিমঘরে ঢুকেছিল। গত ৪ অক্টোবর ব্যবসায়ী সমিতিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী হিমঘর থেকে ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ৬০০ প্যাকেট আলু বেরিয়েছে। মজুত আলুর মাত্র ৪৯.২১ শতাংশ। পুজোয় হিমঘর বন্ধ ছিল। এর মধ্যে আরও ৭ শতাংশ আলু বের হলেও এখনও ৪২ শতাংশের বেশি আলু হিমঘরে মজুত রয়েছে। এখনই আলুর দাম তলানিতে এসে ঠেকেছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, আলুর বন্ড কেনার লোক নেই। গোপালনগরের আলু চাষি দেবব্রত ঘোষ বলেন, হিমঘরে মজুত আলু কীভাবে বিক্রি করব তার দিশা পাচ্ছি না। স্টোরের আলু বীজ হিসাবে ব্যবহার করে চাষ করছি। অর্ধেক জমিতে সর্ষে চাষ করছি।
আলু বীজের ব্যবসায়ী পলাশ ঘোষ বলেন, গত বছর এই সময়ে পাঞ্জাবের আলুর বীজ ১ হাজার ৪০০ টাকা হিসাবে বিক্রি হয়েছে। এবার সেই বীজ ৬৫০ টাকায় কেনার আগ্রহ হারিয়েছে। বেশিরভাগ চাষি সর্ষে চাষে ঝুঁকছেন।
আলু চাষি রিপন সরকার বলেন, ৫০ কেজি রাসায়নিক সারের দাম সর্বনিম্ন আড়াই হাজার টাকা। বিঘা প্রতি আলু বসাতে খরচ ৩০ হাজার টাকা পেরিয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। কম খরচায় সর্ষে চাষ করে অনেক বেশি লাভ হবে। গত বছর সর্ষে চাষে ভাল লাভ হয়েছিল।