


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: যন্তরমন্তরে আন্দোলনে যাওয়ার জন্য মার খেতে হয়েছে আব্দুল হাফিজকে। আর তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে প্রবল মারে প্রাণ দিয়েছেন বাবা মহম্মদ মাফিক। ইন্দাসের করিষুণ্ডা গ্রামের এই ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতেও। সোমবার সেই অভিঘাতেই এলাকায় হাজির হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা। আরশোলা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য প্রশাসনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে চারটি দাবি মানতে হবে। না হলে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও হবে।’
কী সেই চারটি দাবি? আশুতোষবাবু বলেন, স্কুল ঠিক করতে গিয়ে আমাদের সদস্য আব্দুল হাফিজ আজ পিতৃহারা হয়েছেন। অভিযুক্তদের অনেকেই অধরা। তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অত্যাচারিত হওয়ার পরেও পুলিশের সাহায্য পায়নি হাফিজের পরিবার। পুলিশের ভূমিকা সদর্থক নয়। তাই একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার জন্য হাফিজের বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রাখতে হবে। হাফিজের দাবি মতো তাঁর মৃত বাবার নামে একটি উন্নত মানের স্কুল তৈরি করতে হবে।
সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াও সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ, এসএফআই নেতা দেবাঞ্জন দে সহ একাধিক বাম সংগঠনের নেতৃত্ব আব্দুল হাফিজের বাড়িতে আসেন। প্রত্যেকেই তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন। এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফোনে হাফিজের সঙ্গে কথা বলেন। পাশে থাকার বার্তা দেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, মোবাইলে থাকা ভিডিয়ো সহ বিভিন্ন প্রমাণ হাতে নিয়ে কালীঘাটে তাঁর সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন।
শতরূপ বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গুন্ডা দমন আইনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আজ দেখুন কারা গুন্ডা পুষছেন।’ আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘হাফিজ আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে ছিলেন। সেই জন্য তাঁকে পাকিস্তানি বলা হয়েছে। বিজেপি শুধু গুন্ডাগিরি করতে জানে।’