


জয়পুর: যন্তরমন্তর সহ দেশের নানা প্রান্তে পুলিশি দমনপীড়ন চলেছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘোরানো হয়েছে ছড়ি। তবু ককরোচদের বাগে আনা যাচ্ছে না। যত দিন যাচ্ছে, জেন জি-রা যেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে আরও অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। রাজস্থান থেকে স্কুলের বেহাল দশার অভিযোগ পেয়ে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিজেপি-র কো কনভেনার আশুতোষ রাঙ্কা। রবিবার সমাজমাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা করেন। ঘটনাচক্রে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই রাজস্থানের বিজেপি সরকারের তরফে জানানো হয়, অনুমতি ব্যতীত কোনa বহিরাগত স্কুলে ঢুকতে পারবে না। চাপে পড়ে তড়িঘড়ি রাজস্থান সরকারের এমন পদক্ষেপে দেশজুড়ে চর্চা তুঙ্গে। সরকারি স্কুলগুলির মানোন্নয়নের দাবিতে দিনকয়েক আগে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের কথা জানিয়েছিলেন। এরপরই রবিবার সকালে সিজেপি-র আশুতোষ রাঙ্কা একটি পোস্টে জানান, ‘এ পর্যন্ত আমি জয়পুর, আজমের, যোধপুর, উদয়পুর, ঢোলপুর, ভরতপুর, কোটা-সহ রাজস্থানের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এই সমস্ত জায়গায় স্কুলের সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আগামী কয়েকদিন স্কুলগুলি পরিদর্শনে যাব।’
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার ঘণ্টাকয়েক পরই রবিবার সন্ধ্যায় রাজস্থান স্কুলশিক্ষা দপ্তরের ডিরেক্টর ললিত কুমার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেখানে বলা হয়েছে, অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে পড়ুয়াদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। সরকারি কাজে কেউ নিযুক্ত থাকলে ঢুকতে পারবেন। বাকিদের ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধানের অনুমতি ছাড়া ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। লিখিত অনুমতি ছাড়া স্কুলচত্বরের ছবি ও ভিডিয়ো রেকর্ডও করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারও।
এরপরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। হাত শিবিরের বক্তব্য, স্কুলগুলি ঠিক না করে উলটে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চমৎকার সমাধানসূত্র বের করেছে বিজেপি। সম্প্রতি বাঁকুড়ার ইন্দাসে স্কুলের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েই বিজেপির রোষানলে পড়েছেন শেখ আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ, তাঁর বাবাকে পিটিয়ে খুন করেছেন বিজেপি কর্মীরা। সোমবার হাফিজের বাড়িতে গিয়েছিলেন ককরোচ নেতা রাঙ্কা।