


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দেওয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। সামান্য বৃষ্টিতেই স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যাচ্ছে ঘর। তার উপর পুরানো বৈদ্যুতিক তারের কারণে মাঝেমধ্যেই হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এমনই বেহাল দশা ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালের ‘কোল্ড চেইন’ ঘরের। অথচ এই ঘরেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় মজুত রাখা হয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ডিপিআর রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুদের পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, হাম ও রুবেলা, ডায়েরিয়া ও বমি এবং জলাতঙ্কের মতো রোগের ভ্যাকসিন এখানে সংরক্ষণ করা হয়। তাপমাত্রা-সংবেদনশীল এই ভ্যাকসিনগুলি নির্দিষ্ট তাপাঙ্কে রাখাই ‘কোল্ড চেইন’-এর মূল শর্ত। রেফ্রিজারেটরে সাধারণত ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারে মাইনাস ১৫ থেকে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নীচে তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়। কিন্তু জীর্ণ ঘর এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সেই ব্যবস্থা বজায় রাখা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।
দিন দিন ডোমজুড় ও সংলগ্ন এলাকায় জনসংখ্যা এবং রোগীর চাপ বাড়ায় ভ্যাকসিনের চাহিদাও বাড়ছে। অথচ জায়গার অভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভ্যাকসিন মজুত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ঘরের জীর্ণ দশায় কাজ করতেও সমস্যায় পড়ছেন কর্মীরা। অভিযোগ, কয়েকমাস আগে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে তা কিনতে হয়েছিল। এরপর ঘরের পরিকাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত বলেন, ‘ডোমজুড় হাসপাতালের কোল্ড চেইন মেরামতির জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ডিপিআর পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তরে। অর্ডার বের হলেই কাজ শুরু হবে।’