


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি বিধানসভার কুশমোর হাই মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পেল জাতীয় কংগ্রেস। নির্বাচনে মোট ৬টি আসনের প্রতিটিতেই জয়লাভ করে প্রতিপক্ষদের পুরোপুরি ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীরা। চরম নিরাপত্তা ও সতর্কতার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ গণনা পর্ব শেষে এই জয় সুনিশ্চিত হয়।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এই নির্বাচনে সিপিএম, তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেস—চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেশ করেছিলেন। ভোটের ফল প্রকাশের পরই এলাকার রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল ও কংগ্রেসের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির কারণে।
এই জয় প্রসঙ্গে স্থানীয় কংগ্রেস নেতা আশিক ইকবাল শাসকদলকে বিঁধে বলেন, "এখানে সিপিএম এবং তৃণমূল ভেতরে ভেতরে জোট বাঁধে এবং ৬টি আসনেই যৌথ প্রার্থী দাঁড় করায়। অন্যদিকে বিজেপি নামমাত্র ২টি আসনে লড়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অশুভ জোট ও তোষণ রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে আমাদের প্রার্থীর ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।"
তবে কংগ্রেসের তোলা জোটের অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন নলহাটির তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং। তিনি পাল্টা দাবি করে জানান, "তৃণমূলের সাথে সিপিএমের কোনো সমঝোতাই হয়নি। বরং কংগ্রেস এখানে গোপনে বিজেপির সাথে আঁতাত করে নিজেদের আসন সুনিশ্চিত করার চক্রান্ত করেছিল।"
এদিকে ৬-০ ফলাফলে জয়ী হওয়ায় নলহাটিতে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বইছে আনন্দের হাওয়া। জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, "তৃণমূলের বর্তমান ডামাডোল ও বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে একমাত্র বিকল্প হিসেবে জাতীয় কংগ্রেসকেই বেছে নিচ্ছেন। এই মাদ্রাসা নির্বাচনের জয় হলো সেই জনমতেরই এক স্পষ্ট প্রমাণ।" অপরদিকে, তৃণমূল বিধায়কের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এলাকার বিজেপি নেতা বন্যেশ্বর সাহু। তিনি বলেন, আমরা একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিলাম। অন্য একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল লোক জনশক্তি পার্টি। আমরা ৫৬টি ভোট পেয়েছি। মাদ্রাসা মানেই সংখ্যালঘু। তাও আমরা ছাত্ররা ভোট পেয়েছি এটাই বিরাট ব্যাপার।