


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রবল বিরোধিতা ছিল। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ হল সংবিধান সংশোধন বিল সহ এলাকা পুনর্বিন্যাস এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধন বিল। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটাভুটিতে বিল তিনটি পেশ হল বটে। তবে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে আজ, শুক্রবার ১৩১তম সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে মোদি সরকারকে বেগ পেতে হবে বলে আভাস মিলেছে। এদিন বিল পেশের সময় সরকার পক্ষে ২৫১ ভোট পড়ে। বিপক্ষে ১৮৫। কিন্তু আদতে সংবিধান সংশোধন বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ‘স্পেশাল মেজরিটি।’ সংখ্যার বিচারে যা ৩৬২। সরকারের কাছে তা নেই। তাই বিল আটকে নিজেদের জয় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই প্রত্যয়ী বিরোধীরা।
বিরোধীদের বক্তব্য, লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের আইন ইতিমধ্যেই রয়েছে। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম। ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তা সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছে। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি দিতেই তা আইন হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোট থেকে সেটিই কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন বিল এনেছে মোদি সরকার। কিন্তু তৃণমূলের কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রতিমা মণ্ডল, কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, গৌরব গগৈ, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, শিবসেনার (উদ্ধবপন্থী) অরবিন্দ সওয়ান্তের মতো বিরোধীদের একটাই প্রশ্ন, এলাকা পুনর্বিন্যাসকে কেন মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে? ওটি ছাড়াই সংবিধান সংশোধন করা হোক। সমর্থন দেব। কিন্তু এলাকা পুনর্বিন্যাসকে যুক্ত করলে বিরোধিতা করব। সরকারকে ভোটাভুটিতে হারাব। অন্যদিকে, আজ রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান নির্বাচন বয়কট করবে বিরোধীরা। মহিলা সংরক্ষণের প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগের কথা তুলে কাকলিদেবী বলেন, ‘তৃণমূলে মহিলা প্রার্থী ৪১ শতাংশ। সেখানে বিজেপি মাত্র ১৪ শতাংশ। এখন মহিলা সংরক্ষণের মিথ্যে প্রচার করে নাম কিনতে চাইছেন মোদি। আমাদের দাবি, মহিলা সংরক্ষণ ৫০ শতাংশ করা হোক।’ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানান, নরেন্দ্র মোদি নন, মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের পক্ষে সবার আগে সওয়াল করেছিলেন মোতিলাল নেহরু। ১৯২৮ সালে সর্বপ্রথম মহিলাদের প্রতিনিধিত্বর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি। পরে ১৯৩১ সালে কংগ্রেসের করাচি অধিবেশনে বল্লভভাই প্যাটেল সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। সেটি পাশও হয়েছিল।
এদিন বক্তব্য রাখার সময় বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর আরজি, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই সংবিধান সংশোধন বিল সমর্থন করুন। আমাকে কোনো কৃতিত্ব দিতে হবে না। আপনারা নিন। হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘মুখে বলছেন কৃতিত্ব চাই না। তবে মহিলারা কিন্তু পুরুষের আসল চেহারাটা সহজে ধরে ফেলে। প্রধানমন্ত্রী এদিন পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা, মহিলা প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু তার কৃতিত্ব দিতে একবারও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নাম বলেননি।’ মোদির বক্তৃতার পরেই অবশ্য ‘রাজীব গান্ধী অমর রহে’ স্লোগান তোলেন কংগ্রেস সাংসদরা।