


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে রাজ্যে তৃতীয় ও উত্তরবঙ্গে সেরা কোচবিহার। সমস্ত মাপকাঠির নিরিখে একশোর মধ্যে এই জেলার স্কোর ৬৩। এখনও পর্যন্ত ১২৫ দিনের প্রকল্পে রাজ্যে প্রথম স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ১০০-র মধ্যে ওই জেলার স্কোর ৬৮। রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর। তাদের স্কোর ৬৬। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে রাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে মালদহ। এই জেলার স্কোর ৪৫। রাজ্যের নিরিখে অবশ্য এই মুহূর্তে মালদহের স্থান ১৬ নম্বরে। মালদহের উপরে উত্তরের যেসব জেলা রয়েছে, সেগুলি আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ি। তবে উত্তরবঙ্গে তো বটেই, গোটা রাজ্যের নিরিখে একেবারে শেষে রয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকা। তাদের স্কোর মাত্র ২৫। কাজের নিরিখে নীচের সারিতে থাকা উত্তরের তিন জেলা কালিম্পঙ, দার্জিলিং জিটিএ এলাকা এবং উত্তর দিনাজপুরের স্কোর সমান। একশোর মধ্যে ওই তিন জেলার প্রাপ্ত নম্বর ৪৩।
এদিকে, মালদহ গোটা রাজ্যের মধ্যে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে থাকায় কীভাবে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে গতি আনা যায়, তার পথ খুঁজতে মরিয়া জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) ভাস্কর মজুমদার বলেন, জেলার একটা বড়ো অংশে বন্যার কারণে ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। তবে কাজের নিরিখে সামনের সারিতে উঠে আসতে চেষ্টা চলছে। গত কয়েক দিনে আমাদের জেলার স্কোর অনেকটাই বেড়েছে। আর কিছুটা বাড়াতে পারলে আমরা রাজ্যে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পারব বলে আশাবাদী।
মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে গতি বাড়াতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১২৫ দিনের কাজে জেলায় মোট ২০টি মডেল গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন হবে। ওই সমস্ত পঞ্চায়েত ভবনে সোলার লাইটের ব্যবস্থা থাকবে। বাগান করা হবে। সমস্ত ধরনের সরকারি পরিষেবা দিতে কিয়স্ক থাকবে। অন্তত দেড়শো জন বসতে পারেন, এমন মিটিং হল করা হবে। এছাড়াও ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে হেল্থ সাবসেন্টারগুলিকে সাজিয়ে তোলা হবে। কোন কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে ১২৫ দিনের কাজের মাধ্যমে ঢেলে সাজা হবে, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তা ঠিক করতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি জি রামজি প্রকল্পে জেলায় এক একরের বেশি চারশো পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওইসব পুকুরের পাশে গড়ে তোলা হবে পার্ক। এক একরের কম দশটি পুকুর চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলিও ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে সংস্কার হবে। জেলায় ২৩১টি স্কুলের খেলার মাঠের উন্নতিকরণের কাজ হবে জি রামজি প্রকল্পে। শুধু তাই নয়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা যেসব জায়গায় ক্যান্টিন চালান, সেগুলিও সাজিয়ে দেওয়া হবে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) বলেন, আমরা ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে নতুন আম বাগান তৈরির উদ্যোগও নিয়েছি। সেইসঙ্গে যাঁরা আবাস যোজনায় ঘর পেয়েছেন, তাঁরাও নিজেদের বাড়ি তৈরির পর ভিতে মাটি সমান করা থেকে বাড়িতে বাগান তৈরি সহ আনুষঙ্গিক কাজ করতে পারবেন জি রামজি প্রকল্পে। এতে নিজের বাড়ির জন্য পরিশ্রম দিয়েই ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে অর্থ পাবেন তাঁরা। জেলায় মোট ৩৪ হাজার ৮৩০ জনকে এই কাজ দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত আমরা ২৬ হাজার ৮৬৮ জনকে কাজ দিতে পেরেছি।