


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ফের দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ রেল। এবার কাঠগড়ায় রেলের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত জোন। সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে জোনের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়ায় বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে। অভিযোগ, অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ন’কোটি টাকার টেন্ডার নির্দিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে পাইয়ে দিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষের একাংশ। সম্প্রতি সংসদে রিপোর্ট পেশ করেছে ক্যাগ। আর সেই রিপোর্টেই এহেন উদ্বেগজনক তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য রিপোর্টে সুপারিশ করেছে ক্যাগ। সেইমতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। ক্যাগের এই রিপোর্টকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল।
রেলের ট্র্যাক ব্যালাস্ট ক্রাশড মেশিন ক্রয়ের ক্ষেত্রেই মোট ৯ কোটি ৪০ লক্ষের গরমিল হয়েছে বলে সংসদে পেশ করা রিপোর্টে উল্লেখ করেছে ক্যাগ। বিশেষত রেল লাইনের সংকোচন চাপ ধরে রাখার জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট যন্ত্র ক্রয়ের সময়ই ওই গরমিল হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাগ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আওতায় ২৯০ কিলোমিটার অংশে ওই সংক্রান্ত কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধরা হয়েছিল, প্রতি ঘনমিটারে ২ হাজার ৩৮৩ টাকা ৩৩ পয়সা দর নির্ধারণ করা যেতে পারে। তিনটি সংস্থার কাছ থেকে কোটেশনও পাওয়া যায়। তিনটি চুক্তি পত্র মিলিয়ে এর গড় ধরা হয় প্রতি ঘনমিটারে ২ হাজার ৮০০ টাকা ১২ পয়সা। পরবর্তী ক্ষেত্রে দু’জন দরপত্র জমা দেয়। চূড়ান্ত হওয়ার আগেই একজন দরপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
অভিযোগ, এর পরেই উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের একটি অসাধু অংশ আসরে নামে। ২০১৯ সালের মে মাসে একমাত্র দরপত্র আহ্বানকারীকেই ৪৯ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকায় টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটারে এর দর দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৯৭ টাকা ৮৩ পয়সা। দেখা যায়, এই দর প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ন’শতাংশ বেশি। পরবর্তী ক্ষেত্রে ওই রেলের আরও কয়েকটি অংশের ক্ষেত্রেও এই কাজের সম্প্রসারণ ঘটানো হয়। ক্যাগ রিপোর্টে অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকার বরাত ঠিকাদার সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনওরকম দর কষাকষির পথে হাঁটেনি সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে রেলের জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি ক্যাগ।