


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: খোদ রাজধানীতেই বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুলিস! বুধবার নিজের সরকারি বাসভবনে জনতার দরবার চলাকালীন ‘হামলা’র শিকার হলেন রেখা গুপ্তা। তাঁর চুল টেনে ধরে চড় মারতেও উদ্যত হয়েছিল এক যুবক। নিগ্রহের জেরে টেবিলে মাথা ঠুকে গিয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর। এমন বেনজির ঘটনায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে রাজধানীজুড়ে। প্রশ্ন উঠেছে পুলিসের ভূমিকা নিয়েও। যদিও অকুস্থল থেকেই অভিযুক্ত যুবক রাজেশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। অভিযুক্তের বাড়ি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য গুজরাতের রাজকোটে। ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি পথকুকুরদের শেল্টার হোমে পাঠানো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার প্রেক্ষিতে দিল্লি সরকারের তৎপরবর্তী পদক্ষেপের জেরেই রাজেশ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিসের।
পুলিসকর্তাদের দাবি, ‘মোটিভ’ যাই হোক না কেন, রীতিমতো আঁটঘাঁট বেঁধেই হামলা চালিয়েছে অভিযুক্ত। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন কয়েক ঘণ্টা ধরে ‘রেইকি’ করে গিয়েছিল অভিযুক্ত রাজেশ। রিকশ থেকে নেমে সে ফোনে যথেচ্ছ ছবি এবং ভিডিও তুলছে, সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই হামলা? জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে সিভিল লাইনসে নিজের সরকারি বাসভবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এদিনও সকাল ৭টা থেকে তা শুরু হয়। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সকাল ৮টা নাগাদ দরবারে ঢোকে অভিযুক্ত। প্রথমে সে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি কাগজ দেয়। রেখা গুপ্তা ভেবেছিলেন, অভিযোগ সংক্রান্ত কোনও নথি হয়তো তাঁকে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষণিকের অন্যমনস্কতার সুযোগেই মুখ্যমন্ত্রীর চুল টেনে ধরে অভিযুক্ত। চড় মারতে উদ্যত হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় রীতিমতো হতভম্ব হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অন্যরা। এরপরই পালাতে উদ্যত রাজেশকে ধরে ফেলে পুলিস।
রাজকোটে অভিযুক্তের মা ভানুবেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গুজরাত পুলিস। তিনি জানিয়েছেন, পশুপ্রেম থেকেই তাঁর ছেলে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। উজ্জ্বয়িনীতে যাবে বলেই বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিল রাজেশ। কীভাবে সে দিল্লিতে পৌঁছে গেল, তা অজানা মায়ের কাছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মায়ের কাতর আর্জি, ‘আমাদের ক্ষমা করে দিন!’ যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রেখা গুপ্তার প্রতিক্রিয়া, ‘এটি কাপুরুষোচিত ঘটনা। প্রাথমিকভাবে আমি আতঙ্কিত হয়েছিলাম। এখন ঠিক আছি। আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছব।’ রেখা গুপ্তার উপর হামলার কড়া নিন্দা করেছে প্রধান বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (আপ)। ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি সহ দিল্লিজুড়েই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।