


করাচি, ৩ এপ্রিল: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে বিশ্বের সকল দেশেই। তাতে বাদ পড়েনি পড়শি দেশ পাকিস্তানও। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা সৌদির অপরিশোধিত তেলের উপরেই নির্ভরশীল সেদেশ। বর্তমানে সেখান দিয়ে ট্যাঙ্কারে করে গ্যাস-তেলের আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বহু জাহাজ-ট্যাঙ্কার হরমুজের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবাকিভাবেই যোগানের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বেশ খানিকটা বাড়াল পাক সরকার। এই দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। বাণিজ্য পরিস্থিতিও শোচনীয় বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের ব্যুরো অফ স্ট্যাটস একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেদেশে ১১.৬৭ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৯০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫১৩৫ রুপি। সূত্রের খবর, সেদেশে বর্তমানে মাত্র ১১ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানে ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা রেকর্ড। এর ফলে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ৪৫৮.৪০ পাকিস্তানি রুপি এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কেরোসিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৩৪.০৮ বাড়িয়ে ৪৫৭.৮০ পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছে। আজ, শুক্রবার থেকেই নতুন দাম ক্রাযকর হবে। বিষয়টি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক। দাম বাড়ার বিষয়টিকে অনিবার্য সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি পাক অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেবও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়েছেন। এই অবস্থা পাক নাগরিকদের অর্থনৈতিক দুর্ভোগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।