


সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের পর শিল্পাঞ্চলে বিপর্যয় মোকাবিলায় এবার 'অফসাইট ইমার্জেন্সি প্ল্যান' তৈরি করার উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। জেলাশাসকের নির্দেশে ওই প্ল্যান তৈরির জন্য 'আরওডব্লু' অর্থাৎ রাইট অফ ওয়ে ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রশাসন ও শিল্পসংস্থার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে 'আরওডব্লু' কমিটি। হলদিয়া ও কোলাঘাট জেলার দুই শিল্পাঞ্চলের জন্য তৈরি হচ্ছে অফসাইট ইমার্জেন্সি প্ল্যান। আজ, মঙ্গলবার হলদিয়ায় 'ডিস্ট্রিক্ট ক্রাইসিস গ্রুপ'-এ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের নেতৃত্বে হলদিয়া-সহ জেলার ৩৮টি শিল্প সংস্থাকে নিয়ে ওই মিটিং হয়। হলদিয়া অগ্নিকাণ্ডের জেরে মহিলা, শিশু-সহ ২০ জন অগ্নিদগ্ধ হন। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় চিকিৎসাধীন ১০ জন। অতি দাহ্য পেট্রলিয়ামজাত পণ্যের পাইপলাইনে লিকেজ থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পাইপলাইনে পণ্য চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরফলে শিল্প সংস্থাগুলির উৎপাদনে বড়সড় প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন সংস্থার আধিকারিকরা। ফলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।
এদিনের মিটিং থেকে ৮ দফা নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। প্রথমে জেলা প্রসাশন শিল্প সংস্থাগুলির সেফটি অডিটের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষত হলদিয়ায় পেট্রলিয়াম ও পেট্রলিয়ামজাত পণ্য নিয়ে যে সংস্থাগুলি কাজ করে। জেলাশাসক বলেন, একমাসের মধ্যে শিল্প সংস্থাগুলিকে সেফটি অডিট রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে হলদিয়ার অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর অব ফ্যাক্টরিজের কাছে। এছাড়া প্রতিটি শিল্প সংস্থার কী ধরনের ইমার্জেন্সি প্ল্যান রয়েছে তাও জানাতে হবে। কারখানার ভিতরের বিষয়ে শিল্প সংস্থাগুলিদেখবে। কিন্তু কোনও দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় ঘটলে কারখানার বাইরে ওই সংস্থা সমাধানে কী ব্যবস্থা নিতে পারবে তার পরিকল্পনা সবাইকে আলাদা করে জানাতে হবে। একেই সংক্ষেপে বলা হচ্ছে অফসাইট ইমার্জেন্সি প্ল্যান। জেলাশাসক বলেন, প্রতিটি সংস্থা আলাদা অফসাইট প্ল্যান জমা দেবে। সমস্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি কম্প্রিহেন্সিভ অফসাইট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি হবে। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের পেট্ররাসায়নিক বিপর্যয় মোকাবিলায় একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। হলদিয়ার শিল্পশহরের জন্য প্রথম এই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আধিকারিকরা।
সেফটি অডিট ছাড়াও শিল্প সংস্থাগুলির ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম কী ধরনের এবং কতগুলি দমকলের ইঞ্জিন রয়েছে তা জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে বিপর্যয় মোকাবিলায় হলদিয়ায় পুলিশ শিল্প সংস্থার নাইট পেট্রলিং চালু হচ্ছে। এছাড়া শহর জুড়ে থাকা শিল্পের পাইপলাইনে নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায়। এরজন্য পুলিশ ও শিল্প সংস্থাগুলি যৌথ নজরদারির ব্যবস্থা করবে। শিল্পশহরে অফসাইট ইমার্জেন্সি প্ল্যান দেখভালের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরওডব্লু কমিটির উপর। ওই কমিটির মাথায় রয়েছেন হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(এইচডিএ) চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার। এছাড়াও সদস্য সচিব রয়েছেন মহকুমাশাসক, অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ ও এসডিপিও। এদিন শিল্প সংস্থাগুলি অভিযোগ করেছে, তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইনের উপর ঝুপড়ি তৈরি করে আগুন জ্বালানো হয়। এমনভাবেই দখলদাররা এলাকায় বসবাস করছে! সেখানে নজরদারির জন্য কোনওভাবেই পৌঁছনো যায় না। বার বার এফআইআর করেও সমাধান মেলেনি। এদিন জেলাশাসক বলেন, বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনের জীবন বাঁচানোর স্বার্থেই তাদের সরানো হবে। বিপজ্জনক এলাকায় কোনওভাবেই প্রশাসন আর তাঁদের বসবাস করতে দেবে না। অন্যদিকে, আইপিপিএল সংস্থার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের জেরে পাইপলাইন বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গিয়েছে। তবে এরজন্য রান্নার গ্যাসের কোনও সঙ্কট হবে না।