


সিমলা: লাগাতার অতি ভারি বৃষ্টিতে কার্যত তখনছ হিমাচল প্রদেশ। মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান, ভূমিধসে শনিবার রাত পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত শতাধিক মানুষ। নিখোঁজ আরও ৪০ জন। শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুকু। গত বছর বর্ষাতেই উত্তরের এই রাজ্যে মৃত্যু হয়েছিল ৫৫০ জনের। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫৪১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর মতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রবিবার পর্যন্ত অতি ভারি বৃষ্টি চলবে কাংড়া, শিমুর ও মান্ডি জেলায়। জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর, চম্বা, সোলান, সিমলা ও কুলুতে। হড়পা বানের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নদী, ঝর্ণার পাশে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। ধস প্রবণ এলাকাতেও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের লাগাতার দুর্যোগের জেরে হিমাচলের ৫০০টিরও বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা যাচ্ছে। বন্যায় ধুয়ে মুছে সাফ ১৪টি সেতু। ফলে বহু এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মান্ডিতে। ওই জেলায় ১৭৬টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধু মান্ডিতেই ১২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ৪০ জনের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কাঙড়াতে মৃতের সংখ্যা ১৩। হিমাচলের অন্যান্য জেলাগুলিতেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সূত্রের খবর, বিপর্যয়ে শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৩০০ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। লাগাতার বিপর্যয়রে কারণে অন্তত ৫০০ ইলেকট্রিসিটি ডিসট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে পড়েছে। ১০ হাজারের বেশি মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ পরিষেবার বাইরে রয়েছেন। ২৮১টির বেশি জলপ্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল। একদিকে যেমন চলছে উদ্ধার কাজ, পাশাপাশি চলছে সেতু, সড়কগুলির মেরামতির কাজও। গৃহহীনদের জন্য ৫০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সুকু। আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকারও।