


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যেকোনো সময় ব্লাড ব্যাংকে গেলেই যে রক্ত পাওয়া যাবে না, তা জনিয়ে দিচ্ছে রক্তের রিক্যুইজিশন স্লিপই! স্লিপের দ্বিতীয় পাতায় ৪ নং পয়েন্টে লেখা রয়েছে, কোনো বেসরকারি নার্সিংহোম তাদের রোগীর জন্য রক্ত আনতে পাঠালে কাজের দিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে পাঠাতে হবে। শনি ও রবিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে। যদিও সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিয়ম নেই। এই স্লিপ কতটা আইনসঙ্গত এবং জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পর্ষদের নিয়ম মেনে করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যে এনিয়ে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ (এসবিটিসি) ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। স্লিপের এই বয়ানকে ঢাল করে বহু সময় রোগীকে রক্ত না দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
স্লিপের এমন বয়ান ‘অমানবিক’ বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, স্লিপের কথাগুলি ‘সরকারি নিয়ম’ হিসাবে ধরলে, এটাও ধরে নিতে হয় যে সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালের রোগীরা আলাদা ধরনের মানুষ! প্রাইভেটের রোগীদের ইমার্জেন্সি বলে কোনো ব্যাপার নেই!
কারা এ ধরনের ‘অমানবিক’ রিক্যুইজিশন স্লিপের বয়ান তৈরির সঙ্গে যুক্ত? স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, এই স্লিপ তৈরি করে এসবিটিসি। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এই ‘অদ্ভুতুড়ে’ নিয়মের স্লিপই সরবরাহ হয়ে আসছে। জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ (এনবিটিসি) সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের কোনো রাজ্যেই এই ধরনের রিক্যুইজিশন স্লিপ চালু নেই। ব্লাড ব্যাংক খোলা থাকার কথা সাতদিন ২৪ ঘণ্টা। এনবিটিসির আদর্শ রিক্যুইজিশন স্লিপে এরকম সরকারি-প্রাইভেট আলাদা নিয়মও নেই। এই নিয়ম আসলে প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকগুলির ব্যবসা বাড়ানোর রাস্তা করে দিচ্ছে না তো? উঠছে সেই প্রশ্নও। এনবিটিসির সদস্য বিশ্বরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘রিক্যুইজিশন স্লিপের এই ধরনের বয়ান শুধু নিয়ম বহির্ভূতই নয়, অমানবিকও। অবিলম্বে বয়ান বদলের দাবি জানাচ্ছি।’ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তিনি ফোন ধরেননি।