


ভোপাল: ডাবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে চাকরির বাজারে হাহাকার। সরকারি চাকরির আশায় রাজ্যের রোজগার পোর্টালে ২৫ লক্ষের বেশি প্রার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৮১১ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ৮৬ হাজার ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৮ হাজার ৮০০ জন এমবিএ ডিগ্রিধারী! এমন তথ্য সামনে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে বিশেষজ্ঞদের। যদিও তাঁদের ‘বেকার’ বলতে নারাজ রাজ্য সরকার। বদলে তাঁদের ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবক-যুবতী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে বাদল অধিবেশন চলছে। সেখানেই রাজ্যের রোজগার পোর্টালে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী চাকরিপ্রার্থী এবং পেশাদারদের সংখ্যা কত, তা জানতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বালা বচ্চন। তাঁর প্রশ্নের জবাবে সরকারের তরফে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতেই চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থান দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী গৌতম তেতওয়াল জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশ রোজগার পোর্টালে ২৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩২১ জন প্রার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে স্নাতক চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা সবথেকে বেশি। প্রায় ৮ লক্ষ ৩০ হাজার। এর পরই রয়েছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার। এছাড়াও আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং এমবিএ ডিগ্রিধারীরাও। আবেদনকারীদের মধ্যে ১৩ লক্ষ ৯১ হাজার যুবক এবং ১১ লক্ষ ৭৬ হাজার যুবতী রয়েছেন। পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা গিয়েছে, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) মধ্যে বেকারত্বের সংখ্যা সবথেকে বেশি। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ।
রোজগার পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার পরেো কেন একটা অংশকে ‘বেকার’-এর বদলে কেন ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক প্রতাপ গ্রেওয়াল। তাঁর প্রশ্নের জবাবে গৌতম তেতওয়াল জানান, পোর্টালে নথিভুক্তদের অনেকেই বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। সেজন্য সরকারের তরফে তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলা হচ্ছে। আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী মানেই বেকার নন।
বিজেপি সরকারের এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ কংগ্রেস। রাজ্যের হাত শিবিরের নেতা ভূপেন্দ্র গুপ্তা বলেন, হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী থেকে এমবিবিএস ও এমবিএ ডিগ্রিধারীরা চাকরির পিছনে ছুটছেন। রাজ্যের কর্মসংস্থানকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে সরকার।